১/৫১. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৪১৯ - শিরকমুক্ত ঈমান ও জান্নাত-জাহান্নামের পরিণতি

আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴿[الزمر: ٥٣]অর্থাৎ “ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা), হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার ৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ﴿[سبا: ١٧]অর্থাৎ “আমি অকৃতজ্ঞ (বা অস্বীকারকারী)কেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা সাবা ১৭ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨﴿[طه: ٤٨]অর্থাৎ “নিশ্চয় আমাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য, যে মিথ্যা মনে করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা ত্বাহা ৪৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ﴿[الاعراف: ١٥٦]অর্থাৎ “আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত।” (সূরা আ‘রাফ ১৫৬ আয়াত)

শিরকমুক্ত ঈমান: জান্নাত ও জাহান্নামের দুটি পরিণতি

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৪১৯

وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ أَعرَابِي إِلَى النَّبيِّ ﷺ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، مَا الموجِبَتَانِ؟ قَالَ: مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بالله شَيئاً دَخَلَ الجَنَّةَ، وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئاً دَخَلَ النَّار . رواه مسلم

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক বেদুঈন নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! (জান্নাত ও জাহান্নাম) ওয়াজেবকারী (অনিবার্যকারী) কর্ম দু’টি কি?’ তিনি বললেন, ’’যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোনো জিনিসকে অংশীদার করবে (এবং তওবা না করে ঐ অবস্থাতেই সে মৃত্যুবরণ করবে) সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’’ (মুসলিম) [১]

মুসলিম ৯৩, আবূ দাউদ ১৪০৭৯, ১৪৩০১, ১৪৫৯৮, ১৪৭৭৮

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৪১৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক বেদুঈন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, জান্নাত ও জাহান্নাম অনিবার্যকারী দুটি কাজ কী? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তর দিলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করে মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাওহীদের গুরুত্ব স্পষ্ট করে। এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকা। জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয়—দুটিই এই হাদিসে আছে। তাই মুমিনের উচিত ঈমানকে শিরকমুক্ত রাখা এবং আল্লাহর ইবাদত একনিষ্ঠভাবে করা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা তাওহীদের মূল শিক্ষা।
  • শিরক মানুষের আখিরাতের জন্য ভয়াবহ বিষয়।
  • জান্নাত ও জাহান্নামের পরিণতি ঈমানের সঙ্গে জড়িত।
  • ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্য হওয়া দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন