১/৫১. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৪২০ - খাঁটি মনে কালিমার সাক্ষ্য ও আমল ত্যাগ না করার সতর্কতা

আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴿[الزمر: ٥٣]অর্থাৎ “ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা), হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার ৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ﴿[سبا: ١٧]অর্থাৎ “আমি অকৃতজ্ঞ (বা অস্বীকারকারী)কেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা সাবা ১৭ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨﴿[طه: ٤٨]অর্থাৎ “নিশ্চয় আমাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য, যে মিথ্যা মনে করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা ত্বাহা ৪৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ﴿[الاعراف: ١٥٦]অর্থাৎ “আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত।” (সূরা আ‘রাফ ১৫৬ আয়াত)

খাঁটি মনে কালিমার সাক্ষ্য: তাওহীদ ও দায়িত্বের শিক্ষা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৪২০

وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبيَّ ﷺ وَمُعَاذٌ رَدِيفُهُ عَلَى الرَّحْلِ، قَالَ: يَا مُعَاذُ قَالَ: لَبِّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: يَا مُعَاذُ قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: يَا مُعَاذُ قَالَ: لَبِّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ وسَعْدَيْكَ، ثَلاثاً، قَالَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَن لاَ إِلٰهَ إلاَّ الله، وَأنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ إلاَّ حَرَّمَهُ الله عَلَى النَّار ».قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، أفَلاَ أُخْبِرُ بِهَا النَّاس فَيَسْتَبْشِرُوا؟ قَالَ: «إِذاً يَتَّكِلُوا ». فأخبر بِهَا مُعاذٌ عِنْدَ موتِه تَأثُّماً . مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মু’আয যখন নবী (ﷺ) এর পিছনে সওয়ারীর উপর বসেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, ’’হে মু’আয!’’ মু’আয বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি উপস্থিত আছি এবং আপনার খিদমতের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’ তিনি (পুনরায়) বললেন, ’’হে মু’আয!’’ মু’আয বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাজির আছি এবং আপনার খিদমতের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’ তিনি (আবার) বললেন, ’’হে মু’আয!’’ (মুআযও) বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি উপস্থিত আছি এবং আপনার খিদমতের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’রাসূল (ﷺ) এ কথা তিনবার বললেন। (এরপর) তিনি বললেন, ’’যে কোন বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাকে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন।’’ মু’আয বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকদেরকে এই খবর বলে দেব না? যেন তারা (শুনে) আনন্দিত হয়।’ তিনি বললেন, ’’তাহলে তো তারা (এরই উপর) ভরসা করে নেবে (এবং আমল ত্যাগ করে বসবে)।’’ অতঃপর মু’আয (ইলম গোপন রাখার) পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় (এ হাদীসটি) জানিয়ে দিয়েছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ১২৮, ১২৯, মুসলিম ৩২, আবূ দাউদ ১১৯২৩, ১২১৯৫, ১৩১৪, ১৩৩৩১, ২১৪৮৬

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৪২০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, মু‘আয (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পিছনে সওয়ার ছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে তিনবার ডাকলেন। এরপর বললেন, যে বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন। মু‘আয (রাঃ) জানতে চান, তিনি কি মানুষকে এ খবর দেবেন? নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তাহলে তারা শুধু এর ওপর ভরসা করে বসে যেতে পারে। পরে মু‘আয (রাঃ) মৃত্যুর সময় ইলম গোপন রাখার ভয় থেকে হাদিসটি জানিয়েছিলেন। এখানে তাওহীদের ফজিলত আছে, আবার আমল ত্যাগ না করার সতর্কতাও আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কালিমার সাক্ষ্য খাঁটি মনে হওয়া জরুরি।
  • তাওহীদ জাহান্নাম থেকে বাঁচার বড় কারণ হিসেবে এসেছে।
  • সুসমাচার শুনে আমল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
  • ইলম পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ থাকা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন