১/৫১. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৪/৪৪০ - নামাযের পর ক্ষমার সুসংবাদ

আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴿[الزمر: ٥٣]অর্থাৎ “ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা), হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার ৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ﴿[سبا: ١٧]অর্থাৎ “আমি অকৃতজ্ঞ (বা অস্বীকারকারী)কেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা সাবা ১৭ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨﴿[طه: ٤٨]অর্থাৎ “নিশ্চয় আমাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য, যে মিথ্যা মনে করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা ত্বাহা ৪৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ﴿[الاعراف: ١٥٦]অর্থাৎ “আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত।” (সূরা আ‘রাফ ১৫৬ আয়াত)

নামায ও ক্ষমা: অপরাধ স্বীকারের পর আল্লাহর দিকে ফেরা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২৪/৪৪০

وَعَن أَنَسٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبيِّ ﷺ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، أَصَبْتُ حَدّاً، فَأَقِمْهُ عَلَيَّ، وَحَضَرَتِ الصَّلاةُ، فَصَلَّى مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلاةَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، إنِّي أصَبْتُ حَدّاً فَأقِمْ فيَّ كِتَابَ اللهِ. قَالَ: «هَلْ حَضَرْتَ مَعَنَا الصَّلاةَ »؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: «قَدْ غُفِرَ لَكَ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি দণ্ডনীয় অপরাধ করে ফেলেছি; তাই আমার উপর দণ্ড প্রয়োগ করুন।’ ইতিমধ্যে নামাজের সময় হল। সেও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সাথে নামাজ পড়ল। নামাজ শেষ করে পুনরায় সে বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় আমি দণ্ডনীয় অপরাধ করে ফেলেছি; তাই আমার উপর আল্লাহর কিতাবে ঘোষিত দণ্ড প্রয়োগ করুন।’ তিনি বললেন, ’’তুমি কি আমাদের সাথে নামাজ আদায় করেছ?’’ সে বলল, ’জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ’’নিশ্চয় তোমার অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]

সহীহুল বুখারী ৬৮২৩, মুসলিম ২৭৬৪

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্‌-নাবাবী (রহ.)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৪/৪৪০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে বলে, সে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে, তাই তার উপর দণ্ড প্রয়োগ করা হোক। তখন নামাযের সময় হয়ে যায় এবং সে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে নামায পড়ে। নামায শেষে সে আবার একই কথা বলে। নবীজি صلى الله عليه وسلم তাকে জিজ্ঞেস করেন, সে কি তাদের সঙ্গে নামায আদায় করেছে? সে হ্যাঁ বললে নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেন, তার অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছে। এই হাদিসে অপরাধ স্বীকার, নামাযে অংশ নেওয়া এবং আল্লাহর ক্ষমার আশা আছে। তবে এটি সব ধরনের দণ্ড বা আইনগত বিষয়ে সাধারণ নিয়ম বানানোর জায়গা নয়; হাদিসের ঘটনাটি যেমন এসেছে, তেমনভাবেই বুঝতে হবে। মূল শিক্ষা হলো, ভুলের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং নামাযকে গুরুত্ব দেওয়া।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভুল হলে তা স্বীকার করে আল্লাহর দিকে ফিরতে হবে।
  • নামায বান্দার জন্য ক্ষমার আশার বড় মাধ্যম।
  • রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মানুষের সংশোধনের পথ দেখিয়েছেন।
  • একটি ঘটনা থেকে অতিরিক্ত আইন বানানো ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন