১/৫১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৪২৬ - পাপের পর ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা
আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴿[الزمر: ٥٣]অর্থাৎ “ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা), হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার ৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ﴿[سبا: ١٧]অর্থাৎ “আমি অকৃতজ্ঞ (বা অস্বীকারকারী)কেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা সাবা ১৭ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨﴿[طه: ٤٨]অর্থাৎ “নিশ্চয় আমাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য, যে মিথ্যা মনে করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা ত্বাহা ৪৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ﴿[الاعراف: ١٥٦]অর্থাৎ “আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত।” (সূরা আ‘রাফ ১৫৬ আয়াত)
পাপের পর ক্ষমা চাওয়া: রবকে চেনার বড় শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/৪২৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/৪২৬
وَعَنهُ، عَنِ النَّبيِّ ﷺ فِيمَا يَحكِي عَن رَبَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، قَال: أذْنَبَ عَبْدٌ ذَنْباً، فَقَالَ: اَللهم اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، فَقَالَ الله تَبَاركَ وَتَعَالَى: أذنَبَ عَبدِي ذَنباً، فَعَلِمَ أنَّ لَهُ رَبّاً يَغْفِرُ الذَّنْبَ، وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ، ثُمَّ عَادَ فَأذْنَبَ، فَقَالَ: أيْ رَبِّ اغْفِرْ لِي ذَنْبي، فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أذنَبَ عبدِي ذَنباً، فَعَلِمَ أنَّ لَهُ رَبّاً، يَغْفِرُ الذَّنْبَ، وَيَأْخُذُ بالذَّنْبِ، قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَا شَاءَ. مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ(রাঃ)] থেকেই বর্ণিত, নবী (ﷺ) তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন, কোন বান্দা একটি পাপ করে বলল, ’হে প্রভু! তুমি আমার পাপ ক্ষমা কর।’ তখন আল্লাহ তাবারাকা অতা’আলা বলেন, ’আমার বান্দা একটি পাপ করেছে, অতঃপর সে জেনেছে যে, তার একজন প্রভু আছেন, যিনি পাপ ক্ষমা করেন অথবা তা দিয়ে পাকড়াও করেন।’ অতঃপর সে আবার পাপ করল এবং বলল, ’হে প্রভু! তুমি আমার পাপ ক্ষমা কর।’ তখন আল্লাহ তাবারাকা অতা’আলা বলেন, ’আমার বান্দা একটি পাপ করেছে, অতঃপর সে জেনেছে যে, তার একজন প্রভু আছেন, যিনি পাপ ক্ষমা করেন অথবা তা দিয়ে পাকড়াও করেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করলাম। সুতরাং সে যা ইচ্ছা করুক।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৭৫০৭, মুসলিম ২৭৫৮, আহমাদ ৭৮৮৮, ৯০০৩, ১০০০৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৪২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বান্দার পাপ, অনুতাপ এবং আল্লাহর ক্ষমার কথা এসেছে। একজন বান্দা পাপ করল, তারপর বলল, হে প্রভু, আমার পাপ ক্ষমা কর। আল্লাহ বললেন, আমার বান্দা জানে তার একজন রব আছেন, যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং পাপের কারণে পাকড়াওও করতে পারেন। এরপর বান্দা আবার পাপ করল, আবার ক্ষমা চাইল। আল্লাহ আবার একই কথা বললেন এবং ক্ষমার কথা জানালেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সত্যিকারের ক্ষমা চাওয়া মানে আল্লাহকে রব হিসেবে মানা, তাঁর ক্ষমা ও জবাবদিহি—দুটিই বিশ্বাস করা। হাদিসের শেষ বাক্যকে গুনাহ করার ছাড় হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়; বরং এতে বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজা বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাপের পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে দেরি করা উচিত নয়।
- আল্লাহ ক্ষমা করেন, আবার পাপের জন্য পাকড়াওও করতে পারেন—এ বিশ্বাস জরুরি।
- বারবার ভুল হলেও বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে।
- ক্ষমার আশা গুনাহকে সহজ ভাবার কারণ হওয়া উচিত নয়।
