১/৫১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/৪২৮ - গুনাহ, তওবা ও আল্লাহর ক্ষমা
আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴿[الزمر: ٥٣]অর্থাৎ “ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা), হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার ৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ﴿[سبا: ١٧]অর্থাৎ “আমি অকৃতজ্ঞ (বা অস্বীকারকারী)কেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা সাবা ১৭ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨﴿[طه: ٤٨]অর্থাৎ “নিশ্চয় আমাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য, যে মিথ্যা মনে করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা ত্বাহা ৪৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ﴿[الاعراف: ١٥٦]অর্থাৎ “আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত।” (সূরা আ‘রাফ ১৫৬ আয়াত)
গুনাহের পর তওবা: আল্লাহর ক্ষমার দরজা
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/৪২৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/৪২৮
وَعَن أَبي أَيُّوبَ خَالِدِ بنِ زَيدٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: «لَوْلاَ أنَّكُمْ تُذْنِبُونَ، لَخَلَقَ الله خَلْقاً يُذْنِبُونَ، فَيَسْتَغْفِرونَ، فَيَغْفِرُ لَهُمْ». رواه مسلم
আবূ আইয়ূব খালেদ ইবনে যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ আইয়ূব খালেদ ইবনে যায়দ (রাঃ) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ’’তোমরা যদি গুনাহ না কর, তাহলে আল্লাহ তা’আলা এমন জাতি সৃষ্টি করবেন, যারা গুনাহ করবে তারপর তারা (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা চাইবে। আর তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৭৪৮, তিরমিযী ৩৫৩৯, আবূ দাউদ ২৩০০৪
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/৪২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ আইয়ূব খালেদ ইবনে যায়দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর একটি কথা বর্ণনা করেছেন। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমরা যদি গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ এমন সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করবে, তারপর ক্ষমা চাইবে, আর তিনি তাদের ক্ষমা করবেন। এটি মানুষের স্বভাব ও আল্লাহর ক্ষমার সম্পর্ক বোঝায়। মানুষ দুর্বল, ভুল হতে পারে; কিন্তু ভুলের পর অহংকার করা বা গুনাহে পড়ে থাকা মুমিনের পথ নয়। বরং সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, ক্ষমা চায় এবং নিজের অবস্থা ঠিক করার চেষ্টা করে। এই হাদিস গুনাহের অনুমতি নয়; বরং ইস্তিগফার, তওবা এবং আল্লাহর রহমতের আশা জাগানোর শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহ হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
- তওবা বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে।
- আল্লাহ ক্ষমাশীল—এ বিশ্বাস মানুষকে নিরাশ হতে দেয় না।
- গুনাহের কথা শুনে সাহসী নয়, বরং সতর্ক হওয়া উচিত।
