১/৫১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৩/৪২৯ - দৃঢ় বিশ্বাসে কালেমা ও জান্নাতের সুসংবাদ
আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴿[الزمر: ٥٣]অর্থাৎ “ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা), হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার ৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ﴿[سبا: ١٧]অর্থাৎ “আমি অকৃতজ্ঞ (বা অস্বীকারকারী)কেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা সাবা ১৭ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨﴿[طه: ٤٨]অর্থাৎ “নিশ্চয় আমাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য, যে মিথ্যা মনে করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা ত্বাহা ৪৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ﴿[الاعراف: ١٥٦]অর্থাৎ “আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত।” (সূরা আ‘রাফ ১৫৬ আয়াত)
দৃঢ় বিশ্বাসে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: জান্নাতের সুসংবাদ
রিয়াদুস সালেহীন : ১৩/৪২৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৩/৪২৯
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا قُعُوداً مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ، مَعَنَا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، في نَفَرٍ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ مِنْ بَيْنِ أظْهُرِنَا، فَأبْطَأَ عَلَيْنَا فَخَشِينَا أنْ يُقتَطَعَ دُونَنَا، فَفَزِعْنَا فَقُمْنَا فَكُنْتُ أوَّلَ مَنْ فَزِعَ فَخَرَجْتُ أبْتَغِي رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، حَتَّى أتَيْتُ حَائِطاً للأنْصَارِ ... وَذَكَرَ الحَدِيثَ بِطُولِهِ إِلَى قوله: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: اذهَبْ فَمَن لَقِيتَ وَرَاءَ هَذَا الحَائِطِ يَشْهَدُ أنْ لاَ إِلٰهَ إلاَّ الله، مُسْتَيقِناً بِهَا قَلبُهُ فَبَشِّرْهُ بِالجَنَّةِ . رواه مسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বসেছিলাম। আমাদের সঙ্গে আবূ বকর ও উমর (রাঃ)ও লোকদের একটি দলে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্য থেকে উঠে (কোথাও) গেলেন। তারপর তিনি আমাদের নিকট ফিরে আসতে বিলম্ব করলেন। সুতরাং আমরা ভয় করলাম যে, আমাদের অবর্তমানে তিনি (শত্রু) কবলিত না হন। অতঃপর আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে (সভা থেকে) উঠে গেলাম। সর্বপ্রথম আমিই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। সুতরাং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খোঁজে বের হলাম। এমনকি শেষ পর্যন্ত এক আনসারীর বাগানে এলাম।(অতঃপর) তিনি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন, যাতে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’তুমি যাও! অতঃপর (এ বাগানের বাইরে) যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ ঘটবে, যে হৃদয়ের দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দেবে, তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ৩১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৩/৪২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে বসে ছিলেন। নবীজি صلى الله عليه وسلم কিছু সময়ের জন্য উঠে গেলে তিনি ফিরে আসতে বিলম্ব করেন। সাহাবীরা ভয় পেলেন, কোনো বিপদ হলো কি না। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) প্রথমে তাঁকে খুঁজতে বের হন এবং এক আনসারীর বাগানে পৌঁছান। দীর্ঘ ঘটনার এক অংশে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে বলেন, বাগানের বাইরে যার সঙ্গে দেখা হবে, সে যদি হৃদয়ের দৃঢ় বিশ্বাসসহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্য দেয়, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিতে। এই হাদিসে কালেমার শুধু মুখের উচ্চারণ নয়, অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের গুরুত্ব স্পষ্ট। তাওহীদ, ঈমান ও জান্নাতের আশা—সবই এখানে একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সঙ্গে হৃদয়ের দৃঢ় বিশ্বাস জরুরি।
- সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন।
- তাওহীদের সাক্ষ্য জান্নাতের আশার বড় কারণ।
- ঈমানের মূল বিষয় অন্তর ও কথার মিলের সঙ্গে জড়িত।
