১/৫১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৫/৪৩১ - আল্লাহর হক ও বান্দার হক
আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴿[الزمر: ٥٣]অর্থাৎ “ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা), হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার ৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ﴿[سبا: ١٧]অর্থাৎ “আমি অকৃতজ্ঞ (বা অস্বীকারকারী)কেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা সাবা ১৭ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨﴿[طه: ٤٨]অর্থাৎ “নিশ্চয় আমাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য, যে মিথ্যা মনে করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা ত্বাহা ৪৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ﴿[الاعراف: ١٥٦]অর্থাৎ “আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত।” (সূরা আ‘রাফ ১৫৬ আয়াত)
আল্লাহর হক: ইবাদত ও শিরক থেকে বাঁচার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১৫/৪৩১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৫/৪৩১
وَعَن مُعَاذِ بنِ جَبَلٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنْتُ رِدْفَ النَّبيِّ ﷺ عَلَى حِمَارٍ، فَقَالَ: يَا مُعَاذُ، هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ الله عَلَى عِبَادِهِ؟ وَمَا حَقُّ العِبَادِ عَلَى الله؟ قُلْتُ: اللهُ وَرَسُولُهُ أعْلَمُ. قَالَ: فإنَّ حَقَّ اللهِ عَلَى العِبَادِ أنْ يَعْبُدُوهُ، وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيئاً، وَحَقَّ العِبَادِ عَلَى اللهِ أنْ لاَ يُعَذِّبَ مَنْ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيئاً. فقلتُ: يَا رَسُولَ الله، أفَلا أُبَشِّرُ النَّاسَ ؟ قَالَ: لاَ تُبَشِّرْهُمْ فَيَتَّكِلُوا . مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি গাধার উপর নবী (ﷺ) এর পিছনে সওয়ার ছিলাম। তিনি বললেন, ’’হে মু’আয! তুমি কি জানো, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কী?’’ আমি বললাম, ’আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন।’ তিনি বললেন, ’’বান্দার উপর আল্লাহর হক এই যে, সে তাঁরই ইবাদত করবে, এতে তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক এই যে, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না তিনি তাকে আযাব দেবেন না।’’ অতঃপর আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকদেরকে (এ) সুসংবাদ দেব না?’ তিনি বললেন, ’’তাদেরকে সুসংবাদ দিও না। কেননা, তারা (এরই উপর) ভরসা করে বসবে। (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ২৮৫৬, ৫৯৬৭, ৬২৬৭, ৬৫০০, ৭৩৭৩, মুসলিম ৩০, তিরমিযী ২৬৪৩, আবূ দাউদ ২৫৫৯, ইবনু মাজাহ ৪২৯৬, আহমাদ ১৩৩৩১, ২১৪৮৬, ২১৪৯৯, ২১৫০১, ২১৫৩৪, ম২১৫৫৩, ২১৫৬৮, ২১৫৯১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৫/৪৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মু’আয ইবনে জাবাল (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর পেছনে গাধার উপর সওয়ার ছিলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কী। মু’আয (রাঃ) বিনয়ের সঙ্গে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তখন নবীজি صلى الله عليه وسلم বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো, সে কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। আর যে ব্যক্তি শিরক করবে না, আল্লাহ তাকে আযাব দেবেন না—এটাই বান্দার জন্য আল্লাহর ওয়াদা। পরে মু’আয (রাঃ) এটি মানুষের কাছে সুসংবাদ হিসেবে বলতে চাইলে নবীজি صلى الله عليه وسلم বললেন, না, তারা ভরসা করে বসে যেতে পারে। তাই তাওহীদের সঙ্গে আমলের গুরুত্বও এখানে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বান্দার প্রধান দায়িত্ব হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা।
- শিরক থেকে বেঁচে থাকা তাওহীদের মূল দাবি।
- সুসংবাদ বলার ক্ষেত্রেও মানুষের অবস্থা বুঝে কথা বলা দরকার।
- আশা রাখা জরুরি, তবে আমল ছেড়ে ভরসা করে বসা ঠিক নয়।
