১/৫৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৪৫৪ - আরশের ছায়া
আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁর সাক্ষাতের আনন্দে কান্না করার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَيَخِرُّونَ لِلۡأَذۡقَانِ يَبۡكُونَ وَيَزِيدُهُمۡ خُشُوعٗا۩ ١٠٩﴿[الاسراء: ١٠٩]অর্থাৎ “তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে লুটিয়ে (সিজদা) দেয় এবং এ (কুরআন) তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ১০৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ أَفَمِنۡ هَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ تَعۡجَبُونَ ٥٩ وَتَضۡحَكُونَ وَلَا تَبۡكُونَ ٦٠﴿[النجم: ٥٩، ٦٠]অর্থাৎ “তোমরা কি এই কথায় বিস্ময়বোধ করছ? এবং হাসি-ঠাট্টা করছ! ক্রন্দন করছ না?” (সূরা নাজম ৫৯-৬০ আয়াত)
আরশের ছায়া পাবে যে সাত শ্রেণির মানুষ
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৪৫৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৪৫৪
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ في ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إلاَّ ظِلُّهُ: إمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌّ نَشَأ في عِبَادَةِ الله تَعَالَى، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالمَسَاجِدِ، وَرَجُلاَنِ تَحَابّا في اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيهِ وتَفَرَّقَا عَلَيهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأةٌ ذَاتُ مَنصَبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إنِّي أخَافُ الله، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ، فَأخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ الله خَالِياً فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহ তা’আলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তারা হল,) ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তা’আলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।) সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালোবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালোবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়।সেই ব্যক্তি যাকে কোন কুলকামিনী সুন্দরী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহ্বান করে, কিন্তু সে বলে, ’আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ সেই ব্যক্তি যে দান করে গোপন করে; এমনকি তার ডান হাত যা প্রদান করে, তা তার বাম হাত পর্যন্তও জানতে পারে না। আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।’’ (বুখারী-মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৬৬০, ১৪২৩, ৬৪৭৯, ৬৮০৬, মুসলিম ১০৩১, তিরমিযী ২৩৯১, নাসায়ী ৫৩৮০, আহমাদ ৯৩৭৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৭৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৪৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর ছায়া পাওয়ার যোগ্য সাত শ্রেণির মানুষের কথা এসেছে। তাদের মধ্যে আছেন ন্যায়পরায়ণ শাসক, আল্লাহর ইবাদতে বেড়ে ওঠা যুবক, মসজিদের প্রতি হৃদয় আকৃষ্ট ব্যক্তি, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা রাখা দুই বন্ধু, প্রলোভন থেকে আল্লাহভয়ে বেঁচে থাকা ব্যক্তি, গোপনে দানকারী, এবং নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে যার চোখে পানি আসে। হাদিসটি জীবনের নানা জায়গায় তাকওয়ার শিক্ষা দেয়—ক্ষমতা, যৌবন, বন্ধুত্ব, দান, চরিত্র ও জিকির। এখানে মূল কথা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সৎ থাকা। প্রকাশ্য ও গোপন—দুই অবস্থাতেই বান্দার আমল মূল্যবান। তাই এই হাদিস শুধু সাতজনের তালিকা নয়; বরং মানুষের চরিত্র গড়ার পথ দেখায়। পরিবার, সমাজ, মসজিদ, অর্থ ও একান্ত সময়—সবখানে তাকওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ন্যায়, ইবাদত ও আল্লাহভীতি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দরকার।
- গোপন দান ও নির্জনের জিকির আন্তরিকতার পরিচয় দেয়।
- প্রলোভনের সময় আল্লাহকে ভয় করা বড় চরিত্রের লক্ষণ।
- আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানি বন্ধনের শিক্ষা দেয়।
