১/৫৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৪৫৬ - কুরআনের মর্যাদা
আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁর সাক্ষাতের আনন্দে কান্না করার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَيَخِرُّونَ لِلۡأَذۡقَانِ يَبۡكُونَ وَيَزِيدُهُمۡ خُشُوعٗا۩ ١٠٩﴿[الاسراء: ١٠٩]অর্থাৎ “তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে লুটিয়ে (সিজদা) দেয় এবং এ (কুরআন) তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ১০৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ أَفَمِنۡ هَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ تَعۡجَبُونَ ٥٩ وَتَضۡحَكُونَ وَلَا تَبۡكُونَ ٦٠﴿[النجم: ٥٩، ٦٠]অর্থাৎ “তোমরা কি এই কথায় বিস্ময়বোধ করছ? এবং হাসি-ঠাট্টা করছ! ক্রন্দন করছ না?” (সূরা নাজম ৫৯-৬০ আয়াত)
সূরা বাইয়্যিনাহ ও উবাই ইবনে কা’বের অশ্রু
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/৪৫৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/৪৫৬
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ لأُبَي بنِ كَعبٍ رضي الله عنه: «إنَّ الله - عَزَّ وَجَلَّ - أَمَرَنِي أَنْ أقْرَأَ عَلَيْكَ: ﴿ لَمۡ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ﴾ [البينة: ١] قَالَ: وَسَمَّانِي ؟ قَالَ: «نَعَمْ» فَبَكَى أُبَيٌّ . متفقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: فَجَعَلَ أُبَيٌّ يَبْكِي.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ)-কে বললেন, ’’আল্লাহ আমাকে আদেশ করলেন যে, আমি তোমাকে ’সূরা লাম য়্যাকুনিল্লাযীনা কাফারু’ পড়ে শুনাই।’’ উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) বললেন, ’(আল্লাহ কি) আমার নাম নিয়েছেন?’ তিনি বললেন, ’’হ্যাঁ।’’ সুতরাং উবাই (খুশিতে) কেঁদে ফেললেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, উবাই কাঁদতে লাগলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৮০৯, ৪৯৫৯, ৪৯৬০, ৪৯৬১, মুসলিম ৭৯৯, তিরমিযী ৩৭৯২, আহমাদ ১১৯১১, ১১৯৯৫, ১২৫০৮, ১২৮৭৩, ১৩০৩০, ১৩৪৭২, ১৩৬১৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৪৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উবাই ইবনে কা’ব রাঃ-এর জন্য বড় সম্মানের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে বললেন, আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন যে, আমি তোমাকে সূরা লাম ইয়াকুনিল্লাযীনা কাফারু পড়ে শুনাই। উবাই রাঃ জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কি আমার নাম নিয়েছেন? নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, হ্যাঁ। তখন উবাই রাঃ কেঁদে ফেললেন। এই কান্না ছিল আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর কাছে নিজের নাম উল্লেখ হওয়ার গভীর অনুভূতি থেকে। হাদিসটি কুরআনের মর্যাদা, আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সাহাবীদের কোমল হৃদয়ের পরিচয় দেয়। কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বান্দার হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু তিলাওয়াতের সীমায় নয়; সম্মান, মনোযোগ, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর অনুগ্রহ অনুভব করাও এর অংশ। এতে বান্দা নিজের মর্যাদা নয়, আল্লাহর দানকেই বড় করে দেখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন শুনা ও শুনানো বড় সম্মানের কাজ।
- আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ পেলে কৃতজ্ঞ হৃদয় নরম হয়ে যায়।
- সাহাবীদের হৃদয় কুরআন ও আল্লাহর স্মরণে গভীরভাবে প্রভাবিত হত।
