১/৬৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৫৭৭ - কুরআন ও দানের সুন্দর প্রতিযোগিতা
কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য
কৃতজ্ঞ ধনী ঐ ব্যক্তি যে বৈধ পন্থায় ধনার্জন করে এবং তা বৈধ ও বিধেয় পথে ব্যয় করে।এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥ وَصَدَّقَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡيُسۡرَىٰ ﴿ [الليل: ٥، ٧]অর্থাৎ “সুতরাং যে দান করে ও আল্লাহকে ভয় করে, এবং সদ্বিষয়কে সত্যজ্ঞান করে। অচিরেই আমি তার জন্য সুগম করে দেব (জান্নাতের) সহজ পথ।” (সূরা লায়ল ৫-৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلۡأَتۡقَى ١٧ ٱلَّذِي يُؤۡتِي مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ ١٨ وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُۥ مِن نِّعۡمَةٖ تُجۡزَىٰٓ ١٩ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ رَبِّهِ ٱلۡأَعۡلَىٰ ٢٠ وَلَسَوۡفَ يَرۡضَىٰ ٢١ ﴿ [الليل: ١٧، ٢١]অর্থাৎ “আর আল্লাহভীরুকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধন-সম্পদ দান করে এবং তার প্রতি কারো কোন অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়। কেবল তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়। আর সে অচিরেই সন্তুষ্ট হবে।” (সূরা ঐ ১৭-২১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِن تُبۡدُواْ ٱلصَّدَقَٰتِ فَنِعِمَّا هِيَۖ وَإِن تُخۡفُوهَا وَتُؤۡتُوهَا ٱلۡفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَئَِّاتِكُمۡۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ ٢٧١ ﴿ [البقرة: ٢٧١]অর্থাৎ “তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তকে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। এতে তিনি তোমাদের কিছু কিছু পাপ মোচন করবেন, বস্তুত তোমরা যা কর, আল্লাহ তা অবহিত।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭১ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,<صلى الله عليه وسلمm>﴾ لَن تَنَالُواْ ٱلۡبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِن شَيۡءٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ٩٢ ﴿ [ال عمران: ٩٢]অর্থাৎ “তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” (সূরা আলে ইমরান ৯২ আয়াত)
কুরআন ও দান: ভালো কাজে ঈর্ষণীয় দুই গুণ
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৫৭৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৫৭৭
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «لاَ حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ القُرْآنَ، فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، وَرَجُلٌ آتَاهُ مَالاً، فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ».متفقٌ عَلَيْهِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়ঃ(১) ঐ ব্যক্তির (হিংসা করা যায়) যাকে আল্লাহ কোরআন (শিক্ষা) দিয়েছেন অতঃপর সে দিবারাত্রি তার যত্ন করে (তেলাওয়াত ও আমল করে) এবং(২) ঐ ব্যক্তির (হিংসা করা যায়) যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর সে দিবারাত্রি তা দান করে।’’(বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৫০২৫, ৭৫২৯, মুসলিম ৮১৫, তিরমিযী ১৯৩৬, ইবনু মাজাহ ৪২০৯, আহমাদ ৪৫৩৬, ৪৯০৫, ৫৫৮৬, ৬১৩২, ৬৩৬৭
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৫৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেবল দুই বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়। প্রথম ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ কুরআন দিয়েছেন এবং সে দিনরাত কুরআনের যত্ন করে—তেলাওয়াত ও আমলের মাধ্যমে। দ্বিতীয় ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে দিনরাত তা দান করে। এখানে শিক্ষা হলো, একজন মুমিনের আকাঙ্ক্ষা কেবল ধন-সম্পদ বা নামের জন্য নয়; বরং কুরআনের সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক তৈরি করা এবং আল্লাহর পথে খরচ করার জন্য হওয়া উচিত। এই ঈর্ষা কারও ক্ষতি চাওয়ার নাম নয়; বরং নিজের জীবনেও এমন ভালো আমল আনার ইচ্ছা। কুরআনের যত্ন ও দান—দুটিই মুমিনকে আল্লাহমুখী করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন শেখা, পড়া ও আমলে রাখা বড় গুণ।
- সম্পদ থাকলে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করা উচিত।
- ভালো আমলে এগিয়ে যেতে আগ্রহী হওয়া প্রশংসনীয়।
- দিনরাতের জীবনে কুরআন ও দানকে জায়গা দেওয়া দরকার।
