১/৬৪. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৫৭৬ - হক পথে সম্পদ ও হিকমতের ব্যবহার

কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য

কৃতজ্ঞ ধনী ঐ ব্যক্তি যে বৈধ পন্থায় ধনার্জন করে এবং তা বৈধ ও বিধেয় পথে ব্যয় করে।এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥ وَصَدَّقَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡيُسۡرَىٰ ﴿ [الليل: ٥، ٧]অর্থাৎ “সুতরাং যে দান করে ও আল্লাহকে ভয় করে, এবং সদ্বিষয়কে সত্যজ্ঞান করে। অচিরেই আমি তার জন্য সুগম করে দেব (জান্নাতের) সহজ পথ।” (সূরা লায়ল ৫-৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلۡأَتۡقَى ١٧ ٱلَّذِي يُؤۡتِي مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ ١٨ وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُۥ مِن نِّعۡمَةٖ تُجۡزَىٰٓ ١٩ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ رَبِّهِ ٱلۡأَعۡلَىٰ ٢٠ وَلَسَوۡفَ يَرۡضَىٰ ٢١ ﴿ [الليل: ١٧، ٢١]অর্থাৎ “আর আল্লাহভীরুকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধন-সম্পদ দান করে এবং তার প্রতি কারো কোন অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়। কেবল তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়। আর সে অচিরেই সন্তুষ্ট হবে।” (সূরা ঐ ১৭-২১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِن تُبۡدُواْ ٱلصَّدَقَٰتِ فَنِعِمَّا هِيَۖ وَإِن تُخۡفُوهَا وَتُؤۡتُوهَا ٱلۡفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّ‍َٔاتِكُمۡۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ ٢٧١ ﴿ [البقرة: ٢٧١]অর্থাৎ “তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তকে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। এতে তিনি তোমাদের কিছু কিছু পাপ মোচন করবেন, বস্তুত তোমরা যা কর, আল্লাহ তা অবহিত।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭১ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,<صلى الله عليه وسلمm>﴾ لَن تَنَالُواْ ٱلۡبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِن شَيۡءٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ٩٢ ﴿ [ال عمران: ٩٢]অর্থাৎ “তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” (সূরা আলে ইমরান ৯২ আয়াত)

দুই বিষয়ে ভালো ঈর্ষা: সম্পদ ও হিকমতের সঠিক ব্যবহার

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৫৭৬

وعن ابن مسعود رضي الله عنه، عن النبيِّ ﷺ، قَالَ: «لا حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً، فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحَقّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ حِكْمَةً، فَهُوَ يَقْضِي بِهَا ويُعَلِّمُهَا»متفقٌ عَلَيْهِ

ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়ঃ(১) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে হক পথে অকাতরে দান করার ক্ষমতা দান করেছেন এবং(২) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ হিকমত দান করেছেন, অতঃপর সে তার দ্বারা ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।’’(বুখারী ও মুসলিম এটি ৫৪৯ নম্বরে গত হয়েছে।) [১]

সহীহুল বুখারী ৭৩, ১৪০৯, ৭১৪১, ৭৩০, ইবনু মাজাহ ৪২০৮, আহমাদ ৩৬৪৩, ৪০৯৮, মুসলিম ৮১৬

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্‌-নাবাবী (রহ.)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৫৭৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেবল দুই বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়। এখানে ঈর্ষা বলতে ক্ষতিকর হিংসা নয়; বরং এমন ভালো গুণের আকাঙ্ক্ষা, যাতে অন্যের ক্ষতি চাওয়া হয় না। প্রথম ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে হক পথে তা অকাতরে ব্যয় করার ক্ষমতা পেয়েছে। অর্থাৎ সম্পদ তখনই প্রশংসনীয়, যখন তা সঠিক পথে ব্যবহার হয়। দ্বিতীয় ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ হিকমত দিয়েছেন; সে হিকমত দিয়ে ফয়সালা করে এবং তা অন্যকে শিক্ষা দেয়। এই হাদিসে সম্পদ ও জ্ঞানের আসল সৌন্দর্য দেখানো হয়েছে। শুধু ধনী হওয়া বা জ্ঞান থাকা যথেষ্ট নয়; এগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কাজে লাগানোই বড় বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হক পথে সম্পদ ব্যয় করা প্রশংসনীয় আমল।
  • হিকমত দিয়ে ফয়সালা করা ও শিক্ষা দেওয়া বড় গুণ।
  • ভালো গুণ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ক্ষতিকর হিংসা নয়।
  • সম্পদ ও জ্ঞান সঠিক পথে ব্যবহার করলেই তা কল্যাণকর হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন