১/৬৮. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৬০০ - ন্যায়বিচার ও স্বজনপ্রীতি থেকে বাঁচা
হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَتَحۡسَبُونَهُۥ هَيِّنٗا وَهُوَ عِندَ ٱللَّهِ عَظِيمٞ ﴿ [النور: ١٥]অর্থাৎ “তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে; যদিও আল্লাহর দৃষ্টিতে এ ছিল গুরুতর বিষয়।” (সূরা নূর ১৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلۡمِرۡصَادِ ١٤ ﴿ [الفجر: ١٤]অর্থাৎ “নিশ্চয় তোমার রব্ব সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা ফজর ১৪)
ন্যায়বিচার ও আমানত: উমার (রাঃ)-এর ভাতা নির্ধারণের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/৬০০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/৬০০
وَعَن نَافِعٍ: أَنَّ عُمَرَ بنَ الخَطّابِ رضي الله عنه كَانَ فَرَضَ لِلمُهَاجِرينَ الأَوَّلِينَ أرْبَعَةَ الآفٍ وَفَرَضَ لابْنِهِ ثَلاَثَة آلافٍ وَخَمْسَمئَةٍ، فَقيلَ لَهُ: هُوَ مِنَ المُهَاجِرينَ فَلِمَ نَقَصْتَهُ؟ فَقَالَ: إنَّمَا هَاجَرَ بِهِ أبُوهُ. يَقُولُ: لَيْسَ هُوَ كَمَنْ هَاجَرَ بِنَفْسِهِ.رواه البخاري
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) সর্বপ্রথম হিজরতকারীদের জন্য চার হাজার করে ভাতা নির্দিষ্ট করলেন এবং তাঁর ছেলে (আব্দুল্লাহর) জন্য সাড়ে তিন হাজার নির্দিষ্ট করলেন। তাঁকে বলা হল যে, ’তিনিও তো মুহাজিরদের একজন; অতএব আপনি তাঁর ভাতা কম করলেন কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ’তার পিতা তাকে সাথে নিয়ে হিজরত করেছে।’ উমর (রাঃ) বলতেন, ’সে তার মত নয়, যে একাকী হিজরত করেছে।’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৯১২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৬০০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর ন্যায়পরায়ণতার একটি দৃষ্টান্ত এসেছে। তিনি প্রথম হিজরতকারীদের জন্য চার হাজার করে ভাতা নির্ধারণ করেন, কিন্তু নিজের ছেলে আবদুল্লাহর জন্য সাড়ে তিন হাজার নির্ধারণ করেন। তাঁকে বলা হলো, তিনিও তো মুহাজিরদের একজন। তখন উমার (রাঃ) বলেন, তাঁর পিতা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করেছেন; সে তার মতো নয়, যে নিজে হিজরত করেছে। এই ঘটনা দেখায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজের পরিবারের ব্যাপারে বাড়তি সুবিধা না দিয়ে ন্যায় বিচার করতে পারেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো আমানত, ন্যায়বিচার এবং স্বজনপ্রীতি থেকে সতর্ক থাকা। হিজরতের মর্যাদা বিবেচনায় তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বদলে বাস্তব অবস্থাকে মূল্য দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বে থাকলে নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও ন্যায় বজায় রাখা দরকার।
- স্বজনপ্রীতি এড়িয়ে বাস্তব অবদান বিবেচনা করা উচিত।
- আমানতের দায়িত্বে ব্যক্তিগত ভালোবাসার চেয়ে ন্যায় বড়।
