১/৭১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬০৯ - শিশুদের সালাম দেওয়ার সুন্নাহ
মু‘মিনদের জন্য বিনয়ী ও বিনম্র হওয়ার গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেন, [ الشعراء : ٢١٥ ] ﴾ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿অর্থাৎ, তুমি তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি সদয় হও। (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)আল্লাহ তাআলা বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿ [ المائدة : ٥٤ ]অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। (সূরা মাঈদাহ ৫৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴿ [ الحجرات : ١٣ ]অর্থাৎ, হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। (সূরা হুজরাত ১৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন, [ النجم : ٣٢ ] ﴾ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ ﴿অর্থাৎ, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে। (সূরা নজম ৩২ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ، أَهُؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿ [ الأعراف : ٤٨-٤٩ ]অর্থাৎ, আ‘রাফবাসিরা কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান ক’রে বলবে, তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। (বলা হবেঃ) এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ ক’রে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকেই বলা হবে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। (সূরা আ‘রাফ ৪৮-৪৯ আয়াত)
শিশুদের সালাম দেওয়া: নবীজির বিনয়ী সুন্নাহ
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৬০৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৬০৯
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبيَانٍ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَفعَلُه. متفقٌ عَلَيْهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনাস (রাঃ) কতিপয় শিশুর পাশ দিয়ে গেলেন অতঃপর তিনি তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, ’নবী (ﷺ) এ রকমই করতেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম ২১৬৮, তিরমিযী ২৬৯৬, আবূ দাউদ ৫২০২, ইবনু মাজাহ ৩৭০০, আহমাদ ১১৯২৮, ১২৩১৩, ১২৪৮৫, ১২৬১০, ২৬৩৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) কয়েকজন শিশুর পাশ দিয়ে গিয়ে তাদের সালাম দেন। এরপর তিনি বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) এমনই করতেন। খুব ছোট একটি ঘটনা, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। সাধারণত মানুষ বড়দের সালাম দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয়, কিন্তু এখানে শিশুদের প্রতিও সম্মান ও ভালোবাসা দেখানোর শিক্ষা আছে। শিশুদের সালাম দিলে তারা ইসলামী আদব শেখে, নিজেদের সম্মানিত মনে করে এবং বড়দের কাছ থেকে ভালো আচরণ দেখতে পায়। হাদিসটি বিনয় শেখায়; কারণ ছোটদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা অহংকার ভাঙার একটি উপায়। সালাম শুধু অভ্যাস নয়, এটি দোয়া, ভালোবাসা এবং মুসলিম সমাজে আন্তরিকতার চিহ্ন। তাই সালাম শেখানো শুধু কথার শিক্ষা নয়, চরিত্র গঠনেরও সহজ পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুদেরও সালাম দেওয়া নবীজির আমল।
- সালাম ভালোবাসা, দোয়া ও ইসলামী আদবের প্রকাশ।
- ছোটদের সম্মান করা বিনয়ী চরিত্রের অংশ।
