১/৭১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৬১০ - দুর্বল মানুষের পাশে নবীজির বিনয়
মু‘মিনদের জন্য বিনয়ী ও বিনম্র হওয়ার গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেন, [ الشعراء : ٢١٥ ] ﴾ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿অর্থাৎ, তুমি তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি সদয় হও। (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)আল্লাহ তাআলা বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿ [ المائدة : ٥٤ ]অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। (সূরা মাঈদাহ ৫৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴿ [ الحجرات : ١٣ ]অর্থাৎ, হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। (সূরা হুজরাত ১৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন, [ النجم : ٣٢ ] ﴾ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ ﴿অর্থাৎ, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে। (সূরা নজম ৩২ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ، أَهُؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿ [ الأعراف : ٤٨-٤٩ ]অর্থাৎ, আ‘রাফবাসিরা কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান ক’রে বলবে, তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। (বলা হবেঃ) এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ ক’রে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকেই বলা হবে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। (সূরা আ‘রাফ ৪৮-৪৯ আয়াত)
দুর্বল মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার নবীজির শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৬১০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৬১০
وَعَنهُ، قَالَ: إِنْ كَانَتِ الأَمَةُ مِنْ إمَاءِ المَدينَةِ لَتَأْخُذُ بِيَدِ النَّبِيِّ ﷺ، فَتَنْطَلِقُ بِهِ حَيْثُ شَاءتْ. رواه البخاري
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’মদ্বীনার ক্রীতদাসীদের মধ্যে এক ক্রীতদাসী নবী (ﷺ) এর হাত ধরে নিত, তারপর সে (নিজের প্রয়োজনে) তার ইচ্ছামত তাঁকে নিয়ে যেত।’ (বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ৬০৭২, ৪৯৭৮, ৬৬৫৭, মুসলিম ২৮৫৩, তিরমিযী ২৬০৫, ইবনু মাজাহ ৪১১৬, আহমাদ ১৮২৫৩
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৬১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, মদীনার ক্রীতদাসীদের মধ্যে কোনো ক্রীতদাসী নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর হাত ধরে নিজের প্রয়োজনে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেত। বর্ণনাটি নবীজির অসাধারণ বিনয় ও মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার মানসিকতা দেখায়। সমাজে যে মানুষকে দুর্বল বা কম মর্যাদার মনে করা হয়, তার কথাও তিনি গুরুত্ব দিতেন। এখানে ক্ষমতা, পদ বা মর্যাদার অহংকার নেই; বরং সবার প্রতি দয়া ও সহজ আচরণ আছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, বড় হওয়ার অর্থ মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা নয়। বরং দরিদ্র, দুর্বল ও প্রয়োজনমন্দ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সুন্দর চরিত্রের পরিচয়। এভাবে হাদিসটি মর্যাদার ভেদাভেদ ভেঙে মানুষের সেবাকে গুরুত্ব দেয়। তাই মানুষের দরকারে সময় দেওয়া বিনয়ী নেতৃত্বের একটি পরিষ্কার দৃষ্টান্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুর্বল মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া নবীজির চরিত্রের অংশ।
- বড় মর্যাদা থাকলেও মানুষের কাছে সহজ থাকা বিনয়ের লক্ষণ।
- সাহায্যপ্রার্থীকে অবহেলা না করা ইসলামী আদব।
