১/৭১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৬১৪ - নবীদের বকরী চরানো ও বিনয়
মু‘মিনদের জন্য বিনয়ী ও বিনম্র হওয়ার গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেন, [ الشعراء : ٢١٥ ] ﴾ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿অর্থাৎ, তুমি তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি সদয় হও। (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)আল্লাহ তাআলা বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿ [ المائدة : ٥٤ ]অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। (সূরা মাঈদাহ ৫৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴿ [ الحجرات : ١٣ ]অর্থাৎ, হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। (সূরা হুজরাত ১৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন, [ النجم : ٣٢ ] ﴾ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ ﴿অর্থাৎ, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে। (সূরা নজম ৩২ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ، أَهُؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿ [ الأعراف : ٤٨-٤٩ ]অর্থাৎ, আ‘রাফবাসিরা কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান ক’রে বলবে, তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। (বলা হবেঃ) এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ ক’রে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকেই বলা হবে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। (সূরা আ‘রাফ ৪৮-৪৯ আয়াত)
নবীদের বকরী চরানো: হালাল কাজকে সম্মান করার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/৬১৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/৬১৪
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «مَا بَعَثَ اللهُ نَبِيّاً إِلاَّ رَعَى الْغَنَمَ». فَقَالَ أصْحَابُهُ: وأنْتَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، كُنْتُ أرْعَاهَا عَلَى قَرَارِيطَ لأَهْلِ مَكَّةَ ». رواه البخاري
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহ তা’আলা এমন কোন নবী প্রেরণ করেননি, যিনি বকরী চরাননি। তাঁর সাহাবীগণ বললেন, আর আপনিও? তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি কয়েক ক্বীরাত্বের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের বকরী চরাতাম।’’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ২২৬২, ইবনু মাজাহ ২১৪৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৬১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) আবারও বলেছেন, আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি বকরী চরাননি। সাহাবীরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনিও মক্কাবাসীদের বকরী চরিয়েছেন কয়েক ক্বীরাতের বিনিময়ে। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, হালাল কাজকে ছোট মনে করা যাবে না। নবীদের জীবনেও সাধারণ শ্রম ছিল, আর সেই শ্রমের মধ্যে দায়িত্ব, ধৈর্য ও বিনয় শেখার সুযোগ ছিল। কোনো কাজ মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও, তা যদি হালাল হয়, তাহলে তা সম্মানের। হাদিসটি আমাদের কাজের মর্যাদা, নিজের উপার্জনে সন্তুষ্টি এবং অহংকারমুক্ত জীবন শেখায়। জীবিকা অর্জনে লজ্জা নয়; বরং সততা ও পরিশ্রম থাকা দরকার। এতে জীবিকার ক্ষেত্রে সরলতা, আত্মসম্মান এবং আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল উপার্জনের কাজ ছোট নয়।
- নবীদের জীবনেও সাধারণ শ্রম ও দায়িত্ব ছিল।
- সৎ কাজে বিনয় ও ধৈর্য শেখার সুযোগ থাকে।
