১/৭১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৬১৩ - খাবারের বরকত ও অপচয় থেকে বাঁচা
মু‘মিনদের জন্য বিনয়ী ও বিনম্র হওয়ার গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেন, [ الشعراء : ٢١٥ ] ﴾ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿অর্থাৎ, তুমি তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি সদয় হও। (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)আল্লাহ তাআলা বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿ [ المائدة : ٥٤ ]অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। (সূরা মাঈদাহ ৫৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴿ [ الحجرات : ١٣ ]অর্থাৎ, হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। (সূরা হুজরাত ১৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন, [ النجم : ٣٢ ] ﴾ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ ﴿অর্থাৎ, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে। (সূরা নজম ৩২ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ، أَهُؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿ [ الأعراف : ٤٨-٤٩ ]অর্থাৎ, আ‘রাফবাসিরা কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান ক’রে বলবে, তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। (বলা হবেঃ) এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ ক’রে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকেই বলা হবে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। (সূরা আ‘রাফ ৪৮-৪৯ আয়াত)
খাবারের বরকত রক্ষা ও অপচয় না করার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/৬১৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৬১৩
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ كَانَ إِذَا أكَلَ طَعَاماً، لَعِقَ أصَابِعَهُ الثَّلاَثَ . قَالَ: وَقَالَ: إِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيُمِط عَنهَا الأَذَى، وَلِيَأكُلْهَا وَلاَ يَدَعْها لِلشَّيْطان . وأَمَرَ أن تُسلَتَ القَصْعَةُ، قَالَ: فإنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ في أيِّ طَعَامِكُمُ البَرَكَة. رواه مسلم
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন আহার করতেন তখন স্বীয় তিনটি আঙ্গুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, ’’কারো খাবারের লুকমা নিচে পড়ে গেলে সে যেন তা তুলে পরিষ্কার করে খেয়ে ফেলে এবং শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে।’’ আর তিনি আমাদেরকে খাদ্যপাত্র (বা বাসন) ভালভাবে চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, ’’তোমরা জান না যে, তোমাদের কোন্ খাবারে বরকত নিহিত আছে।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২০৩৪, তিরমিযী ১৮০৩, আবূ দাউদ ৩৮৪৫, আহমাদ ১২৪০৪, ১৩৬৭৫, দারেমী ১৯৪২, ২০২৫, ২০২৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৬১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাবারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদব এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খাবার খেলে তিন আঙুল চেটে খেতেন। তিনি বলেছেন, কারো খাবারের লুকমা নিচে পড়ে গেলে তা পরিষ্কার করে খেয়ে নিতে, শয়তানের জন্য ফেলে না রাখতে। তিনি খাদ্যপাত্র ভালোভাবে চেটে খেতে বলেছেন এবং বুঝিয়েছেন, আমরা জানি না কোন খাবারে বরকত আছে। হাদিসটি খাবারের প্রতি সম্মান, অপচয় থেকে বাঁচা এবং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে ছোট না করার শিক্ষা দেয়। এখানে খাবার বেশি বা কম—তা মূল বিষয় নয়; বরং খাবারের বরকতকে মূল্য দেওয়া মূল কথা। তাই খাবার নষ্ট না করা, পরিষ্কার করে গ্রহণ করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের কদর করা মুমিনের সুন্দর অভ্যাস। তাই ছোট খাবারও অবহেলা না করে বরকতের আশা রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারের লুকমা পড়ে গেলে পরিষ্কার করে খাওয়া সুন্নাহ নির্দেশের অংশ।
- খাবার অপচয় না করা আল্লাহর নিয়ামতের কদর।
- মানুষ জানে না খাবারের কোন অংশে বরকত রাখা হয়েছে।
