১/৭৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৬৫২ - আসল বীরত্ব রাগ নিয়ন্ত্রণে
মার্জনা করা এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চলার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ ١٩٩ ﴿ [الاعراف: ١٩٩]অর্থাৎ “তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আ‘রাফ ১৯৯ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ فَٱصۡفَحِ ٱلصَّفۡحَ ٱلۡجَمِيلَ ﴿ [الحجر: ٨٥]অর্থাৎ “তুমি পরম সৌজন্যের সাথে তাদেরকে ক্ষমা কর।” (সূরা হিজর ৮৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ۖ وَلۡيَعۡفُواْ وَلۡيَصۡفَحُوٓاْۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَكُمۡۚ ﴿ [النور: ٢٢]অর্থাৎ “তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি মার্জনা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন?” (সূরা নূর ২২ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴿ [ال عمران: ١٣٤]অর্থাৎ “(সেই ধর্মভীরুদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে,) ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান ১৩৪ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শূরা ৪৩ আয়াত)
রাগ নিয়ন্ত্রণের হাদিস: প্রকৃত বীর কে?
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/৬৫২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/৬৫২
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «لَيْسَ الشَّديدُ بِالصُّرَعَةِ، إنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ». متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’কুস্তিগির বীর সে নয়, যে প্রতিদ্বন্দ্বীকে চিৎপাত করে দেয়। প্রকৃতপক্ষে বীর সেই, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৬১১৪, মুসলিম ২৬০৯, আহমাদ ৭১৭৮, ৭৫৮৪, ১০৩২৪, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৬৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বীরত্বের অর্থ নতুনভাবে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কুস্তীগির বীর সে নয়, যে প্রতিদ্বন্দ্বীকে চিৎপাট করে দেয়। প্রকৃত বীর সেই, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। সাধারণভাবে মানুষ বাহ্যিক শক্তিকে বড় মনে করে। কিন্তু এই হাদিস বলছে, আসল শক্তি ভিতরের নিয়ন্ত্রণে। রাগের সময় কথা, হাত, সিদ্ধান্ত ও আচরণ সামলানো সহজ নয়। তাই যে ব্যক্তি তখন নিজেকে ধরে রাখতে পারে, সে সত্যিকারের শক্তির পরিচয় দেয়। এই শিক্ষা পরিবার, কাজ, সমাজ—সব জায়গায় দরকার। রাগের মুহূর্তে একবার থামা, ভুল কথা না বলা এবং প্রতিশোধের তাড়না থেকে নিজেকে বাঁচানো বড় কাজ। ইসলামী দৃষ্টিতে আত্মসংযম শুধু ভালো অভ্যাস নয়, চরিত্রের শক্তি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকৃত শক্তি বাহুতে নয়, আত্মসংযমে।
- রাগের সময় নিজেকে সামলানো বড় বীরত্ব।
- রাগের মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচা দরকার।
- বাহ্যিক জয় সবসময় চরিত্রের জয় নয়।
