১/৭৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৪৯ - নিজের জন্য প্রতিশোধ না নেওয়া
মার্জনা করা এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চলার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ ١٩٩ ﴿ [الاعراف: ١٩٩]অর্থাৎ “তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আ‘রাফ ১৯৯ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ فَٱصۡفَحِ ٱلصَّفۡحَ ٱلۡجَمِيلَ ﴿ [الحجر: ٨٥]অর্থাৎ “তুমি পরম সৌজন্যের সাথে তাদেরকে ক্ষমা কর।” (সূরা হিজর ৮৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ۖ وَلۡيَعۡفُواْ وَلۡيَصۡفَحُوٓاْۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَكُمۡۚ ﴿ [النور: ٢٢]অর্থাৎ “তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি মার্জনা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন?” (সূরা নূর ২২ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴿ [ال عمران: ١٣٤]অর্থাৎ “(সেই ধর্মভীরুদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে,) ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান ১৩৪ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শূরা ৪৩ আয়াত)
নবীজির চরিত্র: নিজের জন্য প্রতিশোধ না নেওয়ার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৬৪৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৬৪৯
وَعَنهَا، قَالَتْ: مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ شَيْئاً قَطُّ بِيَدِهِ، وَلاَ امْرَأةً وَلاَ خَادِماً، إِلاَّ أنْ يُجَاهِدَ فِي سَبيلِ اللهِ، وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَيْءٌ قَطُّ فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ، إِلاَّ أن يُنْتَهَكَ شَيْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ تَعَالَى، فَيَنْتَقِمُ للهِ تَعَالَى. رواه مسلم
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উক্ত রাবী আয়েশা (রাঃ) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, ’আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো কাউকে সহস্তে মারেননি, না কোন স্ত্রীকে না কোন দাস-দাসীকে। কারো দিক থেকে তিনি কোন কষ্ট পেলে কষ্টদাতার নিকট থেকে প্রতিশোধ নেননি। হ্যাঁ, যদি আল্লাহর হারামকৃত কোন জিনিস লংঘন করা হত (অর্থাৎ কেউ চুরি, ব্যভিচার ইত্যাদি কাজ করে ফেলত), তাহলে আল্লাহর জন্যই তিনি প্রতিশোধ নিতেন (শাস্তি দিতেন)।’ (মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৫৬০, ৬১২৬, ৬৭৮৬, ৬৮৫৩, মুসলিম ২৩২৭, ২৩২৮, আবূ দাউদ ৪৭৮৫, ৪৭৮৬, ইবনু মাজাহ ১৯৮৪, আহমাদ ২৩৫১৪, ২৪০২৮, ২৪২৯৯, ২৪৩০৯, ২৪৩২৫, ২৫৭৩০, ২৭৬৫৮, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৭১, দারেমী ২২১৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৪৯-এর সারসংক্ষেপ
আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ছাড়া কখনো কাউকে নিজ হাতে মারেননি; না কোনো স্ত্রীকে, না কোনো দাস-দাসীকে। তাঁর নিজের দিকে থেকে কেউ কষ্ট দিলে তিনি কষ্টদাতার কাছে প্রতিশোধ নেননি। তবে আল্লাহর হারামকৃত কোনো বিষয় লঙ্ঘিত হলে তিনি আল্লাহর জন্য ব্যবস্থা নিতেন। এই হাদিস নবীজির আচরণের বড় দিক তুলে ধরে। ব্যক্তিগত কষ্টকে তিনি নিজের রাগের বিষয় বানাননি। একই সঙ্গে আল্লাহর সীমাকে হালকা করে দেখেননি। আজকের জীবনে এই শিক্ষা খুব দরকার। আমরা অনেক সময় নিজের অপমান বা কষ্টে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিই। কিন্তু এই হাদিস শেখায়, ব্যক্তিগত রাগের জায়গায় ধৈর্য এবং আল্লাহর হুকুমের জায়গায় দায়িত্বশীলতা রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের কষ্টের জন্য প্রতিশোধ না নেওয়া উত্তম চরিত্র।
- পরিবার ও অধীনস্থদের সাথে কঠোরতা এড়ানো দরকার।
- আল্লাহর হারাম লঙ্ঘিত হলে বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পায়।
- রাগের বদলে ধৈর্য নববী আদর্শের অংশ।
