১/৭৭. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৬৫৪ - ইমামতির সহজতা ও মানুষের খেয়াল

শরীয়তের নির্দেশাবলী লংঘন করতে দেখলে ক্রোধান্বিত হওয়া এবং আল্লাহর দ্বীনের সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার বিবরণ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ﴿ [الحج: ٣٠]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর নিষিদ্ধ (স্থান বা) বিধানসমূহের সম্মান করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য এটাই উত্তম।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩০ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ إِن تَنصُرُواْ ٱللَّهَ يَنصُرۡكُمۡ وَيُثَبِّتۡ أَقۡدَامَكُمۡ ٧ ﴿ [محمد: ٧]অর্থাৎ “যদি তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্য কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন, এবং তোমাদের পা দৃঢ়-প্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (সূরা মুহাম্মাদ ৭ আয়াত)

ইমামতির আদব: নামাযে সহজতা ও মুসল্লির খেয়াল রাখা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৬৫৪

وَعَن أَبي مَسعُودٍ عُقْبَةَ بنِ عَمْرٍو البَدْرِي رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ، فَقَالَ: إنِّي لأَتَأخَّرُ عَن صَلاةِ الصُّبْحِ مِنْ أَجْلِ فُلاَنٍ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا! فَمَا رَأيْتُ النَّبيَّ ﷺ غَضِبَ في مَوْعِظَةٍ قَطُّ أشَدَّ مِمَّا غَضِبَ يَوْمَئذٍ؛ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ، فَأيُّكُمْ أمَّ النَّاسَ فَلْيُوجِزْ؛ فَإنَّ مِنْ وَرَائِهِ الكَبِيرَ وَالصَّغِيرَ وَذَا الحَاجَةِ». متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ মাসঊদ উক্বাহ ইবনে আমর বাদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ’অমুক ব্যক্তি লম্বা নামাজ পড়ায়, তার জন্য আমি ফজরের নামাজ থেকে পিছনে থাকি।’ অতঃপর আমি নবী (ﷺ)-কে কোন ভাষণে সেদিনকার থেকে বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। তিনি বললেন, ’’হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে কিছু লোক লোকদের মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি করছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামতি করবে, সে যেন সংক্ষেপে নামাজ পড়ায়। কারণ তার পিছনে বৃদ্ধ, শিশু এবং এমনও লোক রয়েছে যার কোন প্রয়োজন আছে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ৯০, ৭০২, ৭০৪, ৬১১০, ৭১৫৯, মুসলিম ৪৬৬, ইবনু মাজাহ ৯৪৮, আহমাদ ২৭৪৪০, ১৬৬১৭, ২১৮৩৯, দারেমী ১২৫৯

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৬৫৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে অভিযোগ করলেন যে, একজন ইমাম দীর্ঘ নামায পড়ান, ফলে তিনি ফজরের নামায থেকে পিছিয়ে থাকেন। নবীজি এ ঘটনায় খুব রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে কিছু লোক মানুষের মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি করছে। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন, যে ইমামতি করবে সে যেন সংক্ষেপে নামায পড়ায়। কারণ পেছনে বৃদ্ধ, শিশু এবং প্রয়োজন থাকা মানুষ থাকে। এখানে নামাযের গুরুত্বের সাথে মানুষের অবস্থার খেয়াল রাখার শিক্ষা আছে। ইমাম নিজের শক্তি দেখে নয়, জামাতের মানুষের অবস্থা বুঝে নামায পড়াবেন। দীর্ঘ করা সবসময় ভালো নয়, যদি তা মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়। এই হাদিস সহজতা, দয়া ও দায়িত্বশীল ইমামতির সুন্দর দিক দেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইমামকে মুসল্লিদের অবস্থার খেয়াল রাখতে হবে।
  • অকারণে নামায দীর্ঘ করলে মানুষ কষ্ট পেতে পারে।
  • ধর্মীয় কাজে মানুষকে বিরক্ত করা ঠিক নয়।
  • বৃদ্ধ, শিশু ও প্রয়োজনগ্রস্তদের কথা বিবেচনায় রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন