১/৭৮. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৫৯ - শাসকের আমানত ও জবাবদিহি
প্রজাদের সাথে শাসকদের কোমল ব্যবহার করা, তাদের মঙ্গল কামনা করা, তাদের প্রতি স্নেহপরবশ হওয়ার আদেশ এবং প্রজাদেরকে ধোঁকা দেওয়া, তাদের প্রতি কঠোর হওয়া, তাদের সবার্থ উপেক্ষা করা, তাদের ও তাদের প্রয়োজন সম্বন্ধে উদাসীন হওয়া নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি তুমি সদয় হও।” (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ وَإِيتَآيِٕ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَيَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡبَغۡيِۚ يَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٩٠ ﴿ [النحل: ٩٠]অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালংঘন করা হতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।” (সূরা নাহ্ল ৯০ আয়াত)
শাসকের দায়িত্ব: প্রজার প্রতি ধোঁকা থেকে কঠিন সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৬৫৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৬৫৯
وَعَن أَبي يَعلَى مَعْقِل بنِ يَسارٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَستَرْعِيهِ اللهُ رَعِيَّةً، يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ، إِلاَّ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الجَنَّة ».متفقٌ عليهوَفِي رِوَايَةٍ: فَلَمْ يَحُطْهَا بِنُصْحِهِ لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الجَنَّةوَفي رِوَايَةٍ لِمُسلِمٍ: مَا مِنْ أميرٍ يَلِي أُمُورَ المُسْلِمينَ، ثُمَّ لاَ يَجْهَدُ لَهُمْ وَيَنْصَحُ لَهُمْ، إِلاَّ لَمْ يَدْخُلْ مَعَهُمُ الْجَنَّةَ
আবূ য়্যা’লা মা‘ক্বিল ইবনে য়্যাসার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ’’কোনো বান্দাকে আল্লাহ কোন প্রজার উপর শাসক বানালে, যেদিন সে মরবে সেদিন যদি সে প্রজার প্রতি ধোঁকাবাজি করে মরে, তাহলে আল্লাহ তার প্রতি জান্নাত হারাম করে দেবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’অতঃপর সে (শাসক) তার হিতাকাঙ্ক্ষিতার সাথে তাদের অধিকারসমূহ রক্ষা করল না, সে জান্নাতের সুগন্ধটুকুও পাবে না।’’ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’যে কোনো আমীর মুসলিমদের দেখাশুনার দায়িত্ব নিল, অতঃপর সে তাদের (সমস্যা দূর করার) চেষ্টা করল না এবং তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হল না, সে তাদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’’
সহীহুল বুখারী ৭১৫০, ৭১৫১, মুসলিম ১৪২, আহমাদ ১৯৭৭৮, ১৯৮০৪, দারেমী ২৭৯৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৫৯-এর সারসংক্ষেপ
মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ কোনো বান্দাকে প্রজার উপর শাসক বানালে, সে যদি প্রজার প্রতি ধোঁকাবাজ অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ তার প্রতি জান্নাত হারাম করে দেবেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যদি সে হিতাকাঙ্ক্ষার সাথে তাদের অধিকার রক্ষা না করে, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছে, কোনো আমীর মুসলিমদের দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য চেষ্টা না করলে এবং তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী না হলে, সে তাদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এই হাদিস নেতৃত্বকে বড় আমানত হিসেবে দেখায়। শাসন বা দায়িত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়; মানুষের অধিকার রক্ষা, চেষ্টা করা এবং আন্তরিক কল্যাণ চাওয়া। ধোঁকা ও অবহেলা বড় বিপদের কারণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাসকের দায়িত্ব মানুষের অধিকার রক্ষা করা।
- নেতৃত্বে ধোঁকা ও অবহেলা ভয়াবহ সতর্কতার বিষয়।
- প্রজার কল্যাণে চেষ্টা করা দায়িত্বের অংশ।
- হিতাকাঙ্ক্ষা ছাড়া দায়িত্ব পালন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
