১/৭৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৫৬ - ন্যায়বিচারে পক্ষপাতহীনতা
শরীয়তের নির্দেশাবলী লংঘন করতে দেখলে ক্রোধান্বিত হওয়া এবং আল্লাহর দ্বীনের সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ﴿ [الحج: ٣٠]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর নিষিদ্ধ (স্থান বা) বিধানসমূহের সম্মান করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য এটাই উত্তম।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩০ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ إِن تَنصُرُواْ ٱللَّهَ يَنصُرۡكُمۡ وَيُثَبِّتۡ أَقۡدَامَكُمۡ ٧ ﴿ [محمد: ٧]অর্থাৎ “যদি তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্য কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন, এবং তোমাদের পা দৃঢ়-প্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (সূরা মুহাম্মাদ ৭ আয়াত)
ন্যায়বিচার ও দণ্ডবিধি: পক্ষপাত ছাড়ার কঠিন শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৬৫৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৬৫৬
وَعَنهَا: أَنَّ قُرَيْشاً أهَمَّهُمْ شَأنُ المَرأَةِ المَخزُومِيَّةِ الَّتي سَرَقَتْ، فَقَالُوا: مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ ؟ فَقَالُوا: مَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللهِ ﷺ ؟ فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «أتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ تَعَالَى ؟!» ثُمَّ قامَ فَاخْتَطَبَ، ثُمَّ قَالَ: « إنَّمَا أهْلَك مَنْ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أقامُوا عَلَيْهِ الحَدَّ، وَايْمُ الله، لَوْ أَنَّ فَاطمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعتُ يَدَهَا». متفقٌ عَلَيْهِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে মাখযূমী মহিলাটি চুরি করেছিল তার ব্যাপারটি কুরায়েশদেরকে চিন্তান্বিত করে তুলেছিল। সুতরাং তারা বলল, ’এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয় উসামাহ ইবন যায়দ (রাঃ) ছাড়া আর কে সাহস করতে পারবে?’ ফলে উসামাহ (রাঃ) তাঁর সাথে কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধির ব্যাপারে তুমি সুপারিশ করছ?’’অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি বললেন, ’’তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা এ জন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে শাস্তি প্রদান করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমা চুরি করত, তাহলে আমি তারও হাত কেটে দিতাম।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৪৭৫, ২৬৪৮, ৩৭৩৩, ৪৩০৪, ৬৭৮৭, ৬৭৮৮, ৬৮০০, মুসলিম ১৬৮৮, তিরমিযী ১৪৩০, নাসায়ী ৪৮৯৫, ৪৮৯৭, ৪৮৯৮, ৪৮১৯, ৪৯০০, ৪৯০১, ৪৯০২, ৪৯০৩, আবূ দাউদ ৪৩৭৩, ইবনু মাজাহ ২৫৪৭, আহমাদ ২২৯৬৮, ২৪৭৬৯, দারেমী ২৩০২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মাখযূমী এক নারীর চুরির ঘটনা এসেছে। কুরায়েশরা চিন্তিত হলো এবং উসামাহ ইবন যায়দ (রাঃ)-কে সুপারিশের জন্য পাঠাল। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রিয় ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি ভাষণে বললেন, পূর্বের লোকেরা ধ্বংস হয়েছে কারণ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তারা ছেড়ে দিত, আর দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে শাস্তি দিত। তিনি আরও বললেন, ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদও চুরি করলে তিনি একই দণ্ড প্রয়োগ করতেন। এই হাদিসে ন্যায়বিচার, আইনের সামনে সমতা এবং পক্ষপাতহীনতার শিক্ষা খুব স্পষ্ট। ব্যক্তির মর্যাদা, সম্পর্ক বা প্রভাব বিচারকে বদলে দিতে পারে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ন্যায়বিচারে ধনী-গরিব বা শক্তিশালী-দুর্বল ভেদ করা যায় না।
- আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধিতে অন্যায় সুপারিশ করা নিন্দিত।
- পক্ষপাত সমাজের ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
- সত্যিকারের ন্যায় নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও একই মান ধরে।
