১/৭৯. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৬৬ - ভালো ও নিকৃষ্ট শাসকের পরিচয়

ন্যায়পরায়ণ শাসকের মাহাত্ম্য

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ ﴿ [النحل: ٩٠]অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দেন---।” (সূরা নাহ্‌ল ৯০ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَأَقۡسِطُوٓاْۖ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ﴿ [الحجرات: ٩]অর্থাৎ “সুবিচার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা হুজুরাত ৩৮১ আয়াত)

ভালো শাসক ও নিকৃষ্ট শাসকের লক্ষণ: দোয়া, ভালোবাসা ও আনুগত্য

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৬৬৬

وَعَن عَوفِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: خِيَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ، وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ. وشِرَارُ أئِمَّتِكُم الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ، وَتَلعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ، قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، أفَلاَ نُنَابِذُهُم؟ قَالَ: لاَ، مَا أقَامُوا فِيْكُمُ الصَّلاَةَ . لاَ، مَا أقَامُوا فِيكُمُ الصَّلاَةَ . رواه مسلم

‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ’’তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট শাসকবৃন্দ তারা, যাদেরকে তোমরা ভালবাস এবং তারাও তোমাদেরকে ভালবাসে, তোমরা তাদের জন্য দোয়া কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে। আর তোমাদের নিকৃষ্টতম শাসকবৃন্দ তারা, যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে, তোমরা তাদেরকে অভিশাপ কর এবং তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ করে।’’ (বর্ণনাকারী) বলেন, আমরা বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব না?’ তিনি বললেন, ’’না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে নামায প্রতিষ্ঠা করবে। না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে নামায প্রতিষ্ঠা করবে।’’ (মুসলিম) [১]

মুসলিম ১৮৫৫, আহমাদ ২৩৪৬১, ২৩৪৭৯, দারেমী ২৭৯৭

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৬৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভালো ও নিকৃষ্ট শাসকের চিহ্ন বলেছেন। ভালো শাসক তারা, যাদের জনগণ ভালোবাসে এবং তারাও জনগণকে ভালোবাসে। জনগণ তাদের জন্য দোয়া করে, তারাও জনগণের জন্য দোয়া করে। আর নিকৃষ্ট শাসক তারা, যাদের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয় এবং তারাও জনগণকে ঘৃণা করে; অভিশাপের সম্পর্ক তৈরি হয়। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, এমন শাসকের বিরুদ্ধে কি বিদ্রোহ করা হবে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, না, যতক্ষণ তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে। এখানে মূল শিক্ষা হলো নেতৃত্বের মান, শাসক-জনতার সম্পর্ক এবং আবেগের সময়ও সীমা মানা। হাদিসটি শাসকদের দয়া ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয়, আর জনগণকে নামায প্রতিষ্ঠার শর্তে বিদ্রোহ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভালো শাসকের সঙ্গে জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ার সম্পর্ক থাকে।
  • নিকৃষ্ট শাসকের ক্ষেত্রে ঘৃণা ও অভিশাপের পরিবেশ তৈরি হয়।
  • নামায প্রতিষ্ঠা থাকলে বিদ্রোহ না করার নির্দেশ এসেছে।
  • শাসক ও জনগণ—দুই পক্ষের সম্পর্ক আল্লাহভীতির ভিত্তিতে হওয়া দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন