১/৭৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৬৫ - ন্যায় বিচারকদের মর্যাদা
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ ﴿ [النحل: ٩٠]অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দেন---।” (সূরা নাহ্ল ৯০ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَأَقۡسِطُوٓاْۖ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ﴿ [الحجرات: ٩]অর্থাৎ “সুবিচার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা হুজুরাত ৩৮১ আয়াত)
ইনসাফকারী বিচারক সম্পর্কে হাদিস: দায়িত্বে ন্যায়বিচারের মর্যাদা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৬৬৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৬৬৫
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «إنَّ المُقْسِطِينَ عِنْدَ اللهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ: الَّذِينَ يَعْدِلُونَ في حُكْمِهِمْ وأَهْلِيْهِم وَمَا وَلُوْا». رواه مسلم
আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় ন্যায় বিচারকরা আল্লাহর নিকট জ্যোতির মিম্বরের উপর অবস্থান করবে। যারা তাদের বিচারে এবং তাদের গৃহবাসীদের মধ্যে ও যে সমস্ত কাজে তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছে, তাতে তারা ইনসাফ করে’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ১৮২৭, নাসায়ী ৫৩৭৯, আহমাদ ৬৪৪৯, ৬৪৫৬, ৬৮৫৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ন্যায় বিচারকদের মর্যাদা বলেছেন। যারা নিজেদের বিচারে, পরিবারে এবং যেসব দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়েছে, সেসব কাজে ইনসাফ করে, তারা আল্লাহর নিকট জ্যোতির মিম্বরের উপর থাকবে। এখানে ইনসাফ শুধু আদালতের বিচার নয়; পরিবার, দায়িত্ব, নেতৃত্ব ও যে কোনো কর্তৃত্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একজন মানুষ যদি দায়িত্ব পায়, তার কাজ হলো পক্ষপাত না করা, অন্যায় না করা এবং যার যা প্রাপ্য তা ঠিকভাবে দেখা। হাদিসটি দায়িত্বশীল মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে মর্যাদা পেতে বাহ্যিক পদ নয়, ন্যায় ও সততা জরুরি। তাই ন্যায় বিচারক, পরিবারের নেতা, প্রশাসক বা যে কোনো দায়িত্বশীলের জন্য এই হাদিস গভীর শিক্ষা বহন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে ইনসাফ করা আল্লাহর কাছে সম্মানের কারণ।
- পরিবারের মধ্যেও ন্যায় আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
- যে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেখানে সঠিকভাবে ন্যায় বজায় রাখা দরকার।
- মর্যাদা পদে নয়, দায়িত্বে ইনসাফ করার মধ্যে।
