১/৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৬৭ - আত্মপর্যালোচনা ও আখিরাতের প্রস্তুতি
মুরাক্বাবাহ্ (আল্লাহর ধ্যান)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ٱلَّذِي يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ ٢١٨ وَتَقَلُّبَكَ فِي ٱلسَّٰجِدِينَ ٢١٩ ﴿ [الشعراء: ٢١٨، ٢١٩]অর্থাৎ “যিনি তোমাকে দেখেন; যখন তুমি দন্ডায়মান হও (নামাযে) এবং তোমাকে দেখেন সিজদাকারীদের সাথে উঠতে-বসতে।” (সূরা শু‘আরা ২১৮-২১৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَهُوَ مَعَكُمۡ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡۚ ﴿ [الحديد: ٤]অর্থাৎ “তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা হাদীদ ৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَخۡفَىٰ عَلَيۡهِ شَيۡءٞ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِي ٱلسَّمَآءِ ٥ ﴿ [ال عمران: ٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে যমীন ও আকাশের কোনো কিছুই গোপন নেই।” (সূরা আলে ইমরান ৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلۡمِرۡصَادِ ١٤ ﴿ [الفجر: ١٤]অর্থাৎ “নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা ফজর ১৪ আয়াত)তাঁর অমোঘ বাণী,﴾ يَعۡلَمُ خَآئِنَةَ ٱلۡأَعۡيُنِ وَمَا تُخۡفِي ٱلصُّدُورُ ١٩ ﴿ [غافر: ١٩]অর্থাৎ “চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।”(সূরা মুমিন ১৯ আয়াত)এ ছাড়া এ প্রসঙ্গে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। উক্ত মর্মবোধক হাদীসসমূহঃ-
আত্মপর্যালোচনা: মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমলের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/৬৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৬৭
السابع: عن أبي يعلى شداد بن أوس رضي الله عنه عن النبي ﷺ قال: «الكيس من دان نفسه، وعمل لما بعد الموت، والعاجز من أتبع نفسه هواها، وتمنى على الله الأماني» (رواه الترمذي وقال حديث حسن).
শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সে ব্যক্তি জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন, যে তার নিজের আত্মপর্যালোচনা করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য (নেক) আমল করে। আর ঐ লোক দুর্বল যে স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, আবার আল্লাহর কাছে অবাস্তব আশা পোষণ করে।[১]
হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান। কিন্তু আসলে হাদীসটি দুর্বল। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী ছাড়াও ইমাম আহমাদ, হাকিম ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির কোন সূত্রই দুর্বল বর্ণনাকারী হতে মুক্ত নয়। মুসনাদু আহমাদে বর্ণিত সূত্রে আবূ বাকর ইবনু আবী মারইয়াম নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন : ... তার হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না ...। ইবনু হাজার বলেন : তিনি দুর্বল। তার বাড়িতে চুরি সংঘটিত হওয়ার পর থেকে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। [‘‘সিলসিলা য‘ঈফা’’ গ্রন্থের (২১১০) নম্বর হাদীসে তার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে]। এছাড়া আরো অনেকেই তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর অন্য সূত্রে ইবরাহীম ইবনু আমর ইবনে বাক্র সাকসাকী রয়েছেন যাকে দারাকুতনী মাতরূক আখ্যা দিয়েছেন আর ইবনু হিব্বান তার সম্পর্কে বলেছেন : তিনি তার পিতার উদ্ধৃতিতে বানোয়াট বহু কিছু বর্ণনা করেছেন। তার পিতাও কিছুই না। [বিস্তারিত দেখুন ‘‘সিলসিলা য‘ঈফা’’ (৫৩১৯)]
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বুদ্ধিমান ও দুর্বল মানুষের পার্থক্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। বুদ্ধিমান সে, যে নিজের আত্মপর্যালোচনা করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য নেক আমল করে। অর্থাৎ শুধু দুনিয়ার চাহিদা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজেকে জিজ্ঞেস করে—আমার কাজ আখিরাতের জন্য কতটা উপকারী? অন্যদিকে দুর্বল সে, যে নিজের প্রবৃত্তির পেছনে চলে, তবু আল্লাহর কাছে শুধু আশা করতে থাকে। এখানে আশা নিষেধ করা হয়নি; বরং আমল ছাড়া অবাস্তব আশা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তাই আত্মপর্যালোচনা, নফস নিয়ন্ত্রণ এবং আখিরাতের প্রস্তুতি এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের কাজ যাচাই করা জ্ঞানী মানুষের গুণ।
- মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য নেক আমল করা দরকার।
- প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- আমল ছাড়া শুধু আশা পোষণ করা নিরাপদ পথ নয়।
