২/৯৪. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৭১২ - মেহমানদারির সময়সীমা ও আদব

মেহমানের খাতির করার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ هَلۡ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ضَيۡفِ إِبۡرَٰهِيمَ ٱلۡمُكۡرَمِينَ ٢٤ إِذۡ دَخَلُواْ عَلَيۡهِ فَقَالُواْ سَلَٰمٗاۖ قَالَ سَلَٰمٞ قَوۡمٞ مُّنكَرُونَ ٢٥ فَرَاغَ إِلَىٰٓ أَهۡلِهِۦ فَجَآءَ بِعِجۡلٖ سَمِينٖ ٢٦ فَقَرَّبَهُۥٓ إِلَيۡهِمۡ قَالَ أَلَا تَأۡكُلُونَ ٢٧ ﴿ [الذاريات: ٢٤، ٢٧]অর্থাৎ “তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি? যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। উত্তরে সে বলল, সালাম। এরা তো অপরিচিত লোক। অতঃপর ইব্রাহীম সংগোপনে তার স্ত্রীর নিকট গেল এবং একটি (ভুনা) মাংসবহুল বাছুর নিয়ে এল। তা তাদের সামনে রাখল এবং বলল, তোমরা খাচ্ছ না কেন?” (সূরা যারিয়াত ২৪-২৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَجَآءَهُۥ قَوۡمُهُۥ يُهۡرَعُونَ إِلَيۡهِ وَمِن قَبۡلُ كَانُواْيَعۡمَلُونَ ٱلسَّيِّ‍َٔاتِۚ قَالَ يَٰقَوۡمِ هَٰٓؤُلَآءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطۡهَرُ لَكُمۡۖ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُخۡزُونِ فِي ضَيۡفِيٓۖ أَلَيۡسَ مِنكُمۡ رَجُلٞ رَّشِيدٞ ٧٨ ﴿ [هود: ٧٨]অর্থাৎ “আর তার সম্প্রদায় তার কাছে ছুটে এল এবং তারা পূর্ব হতে কুকর্ম করেই আসছিল; লূত বলল, হে আমার সম্প্রদায়! (তোমাদের ঘরে) আমার এই কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য পবিত্রতম। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে আমার মেহমানদের ব্যাপারে লাঞ্ছিত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কোন ভালো মানুষ নেই?” (সূরা হুদ ৭৮ আয়াত)

মেহমানদারির আদব: সম্মান, সময়সীমা ও দায়িত্ব

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৭১২

وَعَن أَبي شُرَيْح خُوَيْلِدِ بن عَمرٍو الخُزَاعِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ قَالُوا: وَمَا جَائِزَتُهُ؟ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: يَوْمُهُ وَلَيْلَتُهُ، وَالضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ.متفقٌ عَلَيْهِوفي رواية لِمسلمٍ: لاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أنْ يُقِيمَ عِنْدَ أخِيهِ حَتَّى يُؤْثِمَهُ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، وَكيْفَ يُؤْثِمُهُ؟ قَالَ: يُقِيمُ عِنْدَهُ وَلاَ شَيْءَ لَهُ يُقْرِيه بِهِ

আবূ শুরাইহ খুয়াইলিদ ইবনে ‘আমর খুযা‘য়ী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ’’যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।’’ লোকেরা বলল, ’তার পারিতোষিক কী? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ’’একদিন ও একরাত (উত্তমভাবে পানাহারের ব্যবস্থা করা)। আর সাধারণত মেহমানের খাতির তিন দিন পর্যন্ত। (অতঃপর স্বেচ্ছায় তার চলে যাওয়া উচিত)। তিনদিনের অতিরিক্ত হবে মেজবানের জন্য সাদকাহস্বরূপ।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ’’কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের নিকট এতটা থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গোনাহগার করে ফেলে।’’ লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ’হে আল্লাহর রাসূল! তাকে কিভাবে গোনাহগার করে ফেলে?’ উত্তরে তিনি বললেন, ’’এ ওর কাছে থেকে যায়, অথচ ওর এমন কিছু থাকে না, যার দ্বারা সে মেহমানের খাতির করতে পারে।’’

সহীহুল বুখারী ৬০১৯, ৬১৩৫, ৬৪৭৬, মুসলিম ৪৮, তিরমিযী ১৯৬৭, ১৯৬৮, আবূ দাউদ ৩৭৩৮ ইবনু মাজাহ ৩৬৭২, আহমাদ ১৫৯৩৫, ২৬৬১৮, ২৬৬২০, মুওয়াত্তা মালেক ১৭২৮, দারেমী ২০৩৬

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৭১২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মেহমানের সম্মান করার আদব বিস্তারিতভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানকে তার পারিতোষিকসহ সম্মান করে। সাহাবীরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদিন ও একরাত উত্তমভাবে আপ্যায়ন করা। সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত। এরপর যা অতিরিক্ত হয়, তা মেজবানের জন্য সাদাকাহস্বরূপ। মুসলিমের বর্ণনায় আরও এসেছে, কোনো মুসলিম যেন ভাইয়ের কাছে এত বেশি না থাকে যে তাকে গোনাহগার করে ফেলে; অর্থাৎ মেজবানের কাছে খাতির করার সামর্থ্য না থাকলে অতিথির দীর্ঘ থাকা কষ্টের কারণ হতে পারে। এই হাদিস মেহমান ও মেজবান—দুজনকেই ভারসাম্য শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মেহমানকে সম্মান করা ঈমানদার আচরণের অংশ।
  • বিশেষ আপ্যায়নের সময় একদিন ও একরাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত বলা হয়েছে।
  • অতিথিরও মেজবানের সামর্থ্য ও কষ্টের বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন