২/৯৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৭৩১ - মাথা মুণ্ডনে ডান দিক আগে
সম্মান প্রদর্শনের স্থানে ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া (ডান-বাম ব্যবহারবিধি)
সমস্ত ভাল ও সম্মানজনক কাজকর্মে ডান হাত ব্যবহার করা বা ডান দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম; যথাঃ ওযূ, গোসল, তায়াম্মুম, পোশাক পরা, জুতা, মোজা, পায়জামা পরা, মসজিদে প্রবেশ করা, দাঁতন করা, সুরমা লাগানো, নখকাটা, গোঁফ কাটা, বগলের লোম তোলা, চুল কামানো, নামায থেকে সালাম ফেরা, পানাহার করা, মুসাফাহ করা, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা, পায়খানা থেকে বের হওয়া, কোন জিনিস লেন-দেন করা ইত্যাদি। আর উক্ত কার্যাদির বিপরীত অন্যান্য কর্মসমূহে বাম হাত ব্যবহার বা বাম দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম। যেমন নাকঝাড়া, থুতু ফেলা, মসজিদ থেকে বের হওয়া, পোশাক, জুতা, মোজা, পায়জামা ইত্যাদি খোলা, পেশাব-পায়খানার পর ইস্তিঞ্জা (পানি বা ঢিল ব্যবহার) করা, ঘৃণিত কিছু স্পর্শ করা ইত্যাদি।মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾ فَأَمَّا مَنۡ أُوتِيَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَيَقُولُ هَآؤُمُ ٱقۡرَءُواْ كِتَٰبِيَهۡ ١٩ ﴿ [الحاقة: ١٩]অর্থাৎ “সুতরাং যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে সে বলবে, এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ।” (সূরা হা-ক্কাহ ১৯ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴾ فَأَصۡحَٰبُ ٱلۡمَيۡمَنَةِ مَآ أَصۡحَٰبُ ٱلۡمَيۡمَنَةِ ٨ وَأَصۡحَٰبُ ٱلۡمَشَۡٔمَةِ مَآ أَصۡحَٰبُ ٱلۡمَشَۡٔمَةِ ٩ ﴿ [الواقعة: ٨، ٩]অর্থাৎ “ডানওয়ালারা; কত ভাগ্যবান ডানওয়ালারা! আর বামওয়ালারা; কত হতভাগ্য বামওয়ালারা!” (সূরা ওয়াকিয়াহ ৮-৯ আয়াত)
মাথা মুণ্ডনের সুন্নাহ: হজের আমলে ডান দিক আগে
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/৭৩১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৭৩১
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ أَتَى مِنىً، فَأتَى الْجَمْرَةَ فَرَمَاهَا، ثُمَّ أتَى مَنْزِلَهُ بِمِنَىً وَنَحَرَ، ثُمَّ قَالَ لِلحَلاَّقِ: «خُذْ» وأشَارَ إِلَى جَانِبهِ الأَيْمَنِ، ثُمَّ الأَيْسَرِ، ثُمَّ جَعَلَ يُعْطِيهِ النَّاسَ. متفقٌ عَلَيْهِوَفِي رِوَايَةٍ: لَمَّا رَمَى الجَمْرَةَ، وَنَحَرَ نُسُكَهُ وَحَلَقَ، نَاوَلَ الحَلاَّقَ شِقَّهُ الأَيْمَنَ فَحَلَقَهُ، ثُمَّ دَعَا أَبَا طَلْحَةَ الأنْصَارِيَّ رضي الله عنه، فَأعْطَاهُ إيَّاهُ، ثُمَّ نَاوَلَهُ الشِّقَّ الأَيْسَرَ، فَقَالَ: «اِحْلِقْ»، فَحَلَقَهُ فَأعْطَاهُ أَبَا طَلْحَةَ، فَقَالَ: اِقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনায় আগমন করলেন। তারপর জামরায় এসে কাঁকর মারলেন। তারপর পুনরায় মিনায় নিজ ডেরায় ফিরে গেলেন এবং কুরবানীর পশু যবেহ করলেন। তারপর নাপিতকে নিজ মাথার ডান দিকে ইশারা করে বললেন, ’’নাও।’’ তারপর বামদিকে (ইশারা করে মাথা নেড়া করলেন)। তারপর মাথার চুল জনগণের মাঝে বিতরণ করতে লাগলেন। (বুখারী ও মুসলিম)অন্য বর্ণনায় আছে, যখন তিনি জামরায় কাঁকর মারলেন এবং কুরবানী পশু নহর (যবেহ) করলেন এবং মাথা মুন্ডন করলেন, সেই সময় তিনি নাপিতকে মাথার ডান দিকটা বাড়িয়ে দিলেন। সে সেদিকটি মুন্ডন করল। তারপর তিনি আবূ ত্বালহা আনসারী (রাঃ)-কে ডেকে (চুলগুলি) তাঁকে দিলেন। অতঃপর বাম পার্শ্ব নাপিতকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ’’মুন্ডন কর।’’ সুতরাং সে সেদিকটা মুন্ডন করে দিল। অতঃপর তিনি আবূ ত্বালহাকে চুলগুলি দিয়ে দিলেন এবং বললেন, ’’জনগণের মাঝে ওগুলি বণ্টন করে দাও।’’[১]
সহীহুল বুখারী ১৭১, মুসলিম ১৩০৫, তিরমিযী ৯১২, আবূ দাউদ ১৯৮১, আহমাদ ১১৯৯২, ১২০৭৪, ১২৮০৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৭৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি কাজ বর্ণিত হয়েছে। তিনি মিনায় এলেন, জামরায় কাঁকর মারলেন, নিজের ডেরায় ফিরে কুরবানীর পশু যবেহ করলেন, তারপর নাপিতকে মাথার ডান দিকে ইশারা করে বললেন, নাও। এরপর বাম দিক মুণ্ডন করালেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ডান দিকের চুল আবূ ত্বালহা (রা.)-কে দিলেন, তারপর বাম দিকের চুলও দিলেন এবং জনগণের মাঝে বণ্টন করতে বললেন। হাদিসটি হজের আমলের ধারাবাহিকতা এবং ভালো কাজে ডান দিক আগে করার শিক্ষা দেখায়। এখানে মূল বিষয় হলো নবীজির কাজের সূক্ষ্ম অনুসরণ। সাহাবীরা তাঁর চুলও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন, যেমন বর্ণনায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের মাথা মুণ্ডনের সময় নবীজি ডান দিক আগে দিয়েছেন।
- জামরায় কাঁকর মারা, কুরবানী ও মাথা মুণ্ডনের ধারাবাহিকতা বর্ণিত হয়েছে।
- সাহাবীরা নবীজির আমল খুব যত্ন করে সংরক্ষণ করেছেন।
