৩/১০১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৭৪০ - খাবারের দোষ না ধরা
কোন খাবারের দোষত্রুটি বর্ণনা না করা এবং তার প্রশংসা করা উত্তম
খাবারের দোষ না ধরা: নবীজির ভদ্রতা ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৭৪০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৭৪০
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: مَا عَابَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ طَعَامَاً قَطُّ، إِنِ اشْتَهَاهُ أكَلَهُ، وَإنْ كَرِهَهُ تَرَكَهُ. متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো কোন খাবারের দোষ বর্ণনা করেননি। ভাল লাগলে তিনি তা খেয়েছেন এবং খারাপ লাগলে তিনি তা ত্যাগ করেছেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৪৫০৯, ৩৫৬৩, মুসলিম ২০৬৪, তিরমিযী ২০৩১, দাউদ ৩৭৬৩, ইবনু মাজাহ ৩২৫৯, আহমাদ ৯২২৩, ৯৭৯১, ৯৮৫৫, ৯৮৮২, ১০০৪৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৭৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরায়রা (রা.) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর খাবারের আদব বর্ণনা করেছেন। তিনি কখনো কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না। খাবার ভালো লাগলে খেতেন, আর ভালো না লাগলে তা ছেড়ে দিতেন। এতে ভদ্রতা, সংযম এবং কৃতজ্ঞতার শিক্ষা আছে। অনেক সময় মানুষ খাবার পছন্দ না হলে কঠিন কথা বলে, রান্নাকারীকে কষ্ট দেয় বা নিয়ামতের অবমূল্যায়ন করে। নবীজির আমল ছিল ভিন্ন। তিনি অপছন্দ করলে নীরবে ছেড়ে দিতেন। এই হাদিস আমাদের শেখায়, খাবার নিয়ে অযথা অভিযোগ না করা ভালো। পছন্দ-অপছন্দ স্বাভাবিক, কিন্তু তা প্রকাশের ভদ্র পদ্ধতি আছে। খাবারের আদবে কৃতজ্ঞতা ও মানুষের মন রক্ষা করা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার পছন্দ না হলে দোষ না ধরে ছেড়ে দেওয়া ভালো আদব।
- নবীজি খাবার ভালো লাগলে খেতেন, না লাগলে ত্যাগ করতেন।
- খাবার নিয়ে কঠিন মন্তব্য না করা কৃতজ্ঞতা ও ভদ্রতার পরিচয়।
