১/৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১১/৮৫ - ইলম, রিযিক ও ভাইয়ের সহায়তা
দৃঢ়-প্রত্যয় ও (আল্লাহর প্রতি) ভরসা
মহান আল্লাহ বলেন,﴾ وَلَمَّا رَءَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلۡأَحۡزَابَ قَالُواْ هَٰذَا مَا وَعَدَنَا ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَصَدَقَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥۚ وَمَا زَادَهُمۡ إِلَّآ إِيمَٰنٗا وَتَسۡلِيمٗا ٢٢ ﴿ [الاحزاب: ٢٢]অর্থাৎ “বিশ্বাসীরা যখন শত্রুবাহিনীকে দেখল তখন ওরা বলে উঠল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তো আমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতই দিয়েছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছিলেন। এতে তো তাদের বিশ্বাস ও আনুগত্যই বৃদ্ধি পেল।” (সূরা আহযাব ২২ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেন,﴾ ٱلَّذِينَ قَالَ لَهُمُ ٱلنَّاسُ إِنَّ ٱلنَّاسَ قَدۡ جَمَعُواْ لَكُمۡ فَٱخۡشَوۡهُمۡ فَزَادَهُمۡ إِيمَٰنٗا وَقَالُواْ حَسۡبُنَا ٱللَّهُ وَنِعۡمَ ٱلۡوَكِيلُ ١٧٣ فَٱنقَلَبُواْ بِنِعۡمَةٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَفَضۡلٖ لَّمۡ يَمۡسَسۡهُمۡ سُوٓءٞ وَٱتَّبَعُواْ رِضۡوَٰنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ ذُو فَضۡلٍ عَظِيمٍ ١٧٤ ﴿ [ال عمران: ١٧٣، ١٧٤]অর্থাৎ “যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় কর। কিন্তু এ (কথা) তাদের বিশ্বাস দৃঢ়তর করেছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক। তারপর তারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরে এসেছিল, কোন অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং আল্লাহ যাতে সন্তুষ্ট হন তারা তারই অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।” (সূরা আলে ইমরান ১৭৩-১৭৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡحَيِّ ٱلَّذِي لَا يَمُوتُ ﴿ [الفرقان: ٥٧]অর্থাৎ “তুমি তাঁর উপর নির্ভর কর যিনি চিরঞ্জীব, যাঁর মৃত্যু নেই।” (সূরা ফুরক্বান ৫৮আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَعَلَى ٱللَّهِ فَلۡيَتَوَكَّلِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ﴿ [ابراهيم: ١١]অর্থাৎ “মু‘মিনদের উচিত, কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভর করা।” (সূরা ইব্রাহীম ১১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَإِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِۚ ﴿ [ال عمران: ١٥٩]অর্থাৎ “তুমি কোন সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহর প্রতি নির্ভর কর। (নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর উপর নির্ভরশীলদেরকে ভালবাসেন।)” (সূরা আলে ইমরান ১৫৯ আয়াত)আরো আল্লাহ বলেন,﴾وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓ﴿ [الطلاق: ٣]অর্থাৎ “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করবে তার জন্য তিনই যথেষ্ট হবেন।” (সূরা ত্বালাক ৩ আয়াত)﴾ إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتۡ قُلُوبُهُمۡ وَإِذَا تُلِيَتۡ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُهُۥ زَادَتۡهُمۡ إِيمَٰنٗا وَعَلَىٰ رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُونَ ٢ ﴿ [الانفال: ٢]অর্থাৎ “বিশ্বাসী (মু‘মিন) তো তারাই যাদের হৃদয় আল্লাহকে স্মরণ করার সময় ভীত হয় এবং যখন তাঁর আয়াত তাদের নিকট পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের বিশ্বাস (ঈমান) বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা রাখে।”একীন (দৃঢ়প্রত্যয়) ও তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা)র গুরুত্ব সম্বন্ধে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। এ মর্মের হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ
রিযিক ও দ্বীনি ইলম: ভাইয়ের কারণে রিযিক পাওয়ার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১১/৮৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১১/৮৫
وعن أنس رضي الله عنه قال: كان أخوان على عهد النبي ﷺ، وكان أحدهما يأتي النبي ﷺ ، والآخر يحترف، فشكا المحترف آخاه للنبي ﷺ فقال : «لعلك ترزق به» (رواه الترمذي بإسناد صحيح على شرط مسلم).
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর যুগে দুই ভাই ছিল। তাদের মধ্যে একজন নবী (ﷺ)-এর কাছে (দ্বীন শিক্ষার জন্য) আসত এবং আর একজন হাতের কোন কাজ করে উপার্জন করত। অতঃপর উপার্জনশীল (ভাইটা) নবী (ﷺ)-এর কাছে তার (শিক্ষার্থী) ভাইয়ের (কাজ না করার) অভিযোগ করল। নবী (ﷺ) বললেন, ’’সম্ভবত তোমাকে তার কারণেই রুযী দেওয়া হচ্ছে।’’[১]
তিরমিযী ২৩৪৫, (ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এটিকে বিশুদ্ধ সূত্রে মুসলিমের শর্তানুযায়ী বর্ণনা করেছেন।)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১১/৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রিযিক, ইলম শেখা এবং পরিবারের ভেতরের দায়িত্ব নিয়ে সূক্ষ্ম শিক্ষা আছে। দুই ভাইয়ের একজন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে দ্বীন শেখার জন্য আসতেন, আর অন্যজন কাজ করে উপার্জন করতেন। উপার্জনকারী ভাই অভিযোগ করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, সম্ভবত তোমাকে তার কারণেই রিযিক দেওয়া হচ্ছে। এখানে কাজ না করার সাধারণ অনুমতি দেওয়া হয়নি; বরং নির্দিষ্ট ঘটনার মাধ্যমে মনে করানো হয়েছে, রিযিকের পেছনে আল্লাহর অদেখা ব্যবস্থা থাকে। কোনো পরিবারের একজন দ্বীন শেখে, দোয়া করে, ভালো পথে থাকে—এগুলোর বরকতও আল্লাহ রিযিকের কারণ করতে পারেন। তাই অন্যের দ্বীনি চেষ্টাকে ছোট করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রিযিক শুধু বাহ্যিক পরিশ্রমের ফল নয়; আল্লাহই রিযিকদাতা।
- দ্বীন শেখার কাজে থাকা ব্যক্তিকে তাচ্ছিল্য করা ঠিক নয়।
- পরিবারে একে অন্যের উপকারের অদেখা দিক থাকতে পারে।
- অভিযোগের আগে আল্লাহর দান ও বরকতের দিক ভাবা দরকার।
