৬/১৪২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৮৮৬ - হাঁচির জবাবের শর্তের বাস্তব শিক্ষা
যে হাঁচি দিবে সে আলহামদু লিল্লাহ বললে তার উত্তর দেওয়া মুস্তাহাব। নচেৎ তা অপছন্দনীয়। হাঁচির উত্তর দেওয়া, হাঁচি ও হাই তোলা সম্পর্কিত আদব-কায়দা
হাঁচির জবাব কেন সবার জন্য এক নয়: আলহামদুলিল্লাহর শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৮৮৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৮৮৬
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: عَطَسَ رَجُلانِ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ، فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ، فَقَالَ الَّذِي لَمْ يُشَمِّتْهُ: عَطَسَ فُلانٌ فَشَمَّتَّهُ، وَعَطَسْتُ فَلَمْ تُشَمِّتْنِي؟ فَقَالَ: « هَذَا حَمِدَ الله، وَإنَّكَ لَمْ تَحْمَدِ الله ». متفقٌ عَلَيْهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
দু’জন লোক নবী (ﷺ) এর নিকটে হাঁচল। তিনি তাদের মধ্যে একজনের উত্তর দিলেন। আর দ্বিতীয় জনের উত্তর দিলেন না। যে ব্যক্তির উত্তর দিলেন না সে বলল, ’অমুক ব্যক্তি হাঁচল তো তার উত্তর দিলেন, আর আমি হাঁচলাম, কিন্তু আপনি আমার উত্তর দিলেন না!?’ তিনি বললেন, ’’ঐ ব্যক্তি ’আলহামদু লিল্লাহ’ পড়েছে। আর তুমি ’আলহামদু লিল্লাহ’ পড়নি তাই।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬২২৫, মুসলিম ২৯৯১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৮৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাঁচির জবাব দেওয়ার নিয়ম একটি ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে দুজন লোক হাঁচল। তিনি একজনকে জবাব দিলেন, আর অন্যজনকে দিলেন না। যিনি জবাব পাননি, তিনি কারণ জানতে চাইলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, একজন আলহামদুলিল্লাহ বলেছে, আর তুমি বলনি। তাই এই হাদিস দেখায়, হাঁচির জবাব পাওয়ার আগে হাঁচিদাতার কাজ হলো আল্লাহর প্রশংসা করা। এটি পক্ষপাতের বিষয় নয়; বরং সুন্নত আদবের অনুসরণ। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ছোট বিষয়ের মধ্যেও নিয়ম আছে এবং সেই নিয়ম মানলে পরস্পরের দোয়া ও সুন্দর আচরণ পূর্ণ হয়। এ কারণে হাঁচির পরে নিজের দায়িত্ব আগে পালন করা, তারপর অন্যের জবাব আশা করা—এটাই হাদিসের সোজা শিক্ষা। ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে নবী (صلى الله عليه وسلم) কারণটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাঁচির জবাবের আগে আলহামদুলিল্লাহ বলা দরকার।
- জবাব না দেওয়ার কারণ ছিল নিয়ম না মানা, ব্যক্তি নয়।
- ইসলামী আদব ছোট কাজেও স্পষ্ট নির্দেশ দেয়।
