৬/১৪২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৮৮৭ - হাঁচির সময় মুখ ঢাকার আদব
যে হাঁচি দিবে সে আলহামদু লিল্লাহ বললে তার উত্তর দেওয়া মুস্তাহাব। নচেৎ তা অপছন্দনীয়। হাঁচির উত্তর দেওয়া, হাঁচি ও হাই তোলা সম্পর্কিত আদব-কায়দা
হাঁচির সময় মুখ ঢাকার সুন্নত আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/৮৮৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/৮৮৭
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ﷺ إِذَا عَطَسَ وَضَعَ يَدَهُ أَوْ ثَوْبَهُ عَلَى فِيهِ، وَخَفَضَ - أَوْ غَضَّ - بِهَا صَوْتَهُ. شك الراوي. رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন হাঁচতেন তখন নিজ হাত অথবা কাপড় মুখে রাখতেন এবং তার মাধ্যমে শব্দ কম করতেন।’ (আবূ দাউদ, তিরমিযী, হাসান সহীহ)[১]
তিরমিযী ২৭৪৫, আবূ দাউদ ৫০২৯, আহমাদ ৯৩৭০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৮৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাঁচির সময় শরীরী আদব শেখানো হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যখন হাঁচতেন, তখন নিজের হাত অথবা কাপড় মুখে রাখতেন এবং শব্দ কম করতেন। এতে বোঝা যায়, হাঁচি স্বাভাবিক বিষয় হলেও এরও ভদ্র নিয়ম আছে। মানুষের সামনে উচ্চ শব্দে, মুখ খোলা রেখে বা অন্যকে অস্বস্তিতে ফেলে হাঁচা ভালো আদব নয়। হাদিসটি সরাসরি শেখায়—মুখ ঢেকে রাখা এবং শব্দ কম রাখা। আজকের দিনে স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও মানুষ মুখ ঢেকে হাঁচাকে ভালো আচরণ মনে করে, কিন্তু এই ব্যাখ্যায় আমরা শুধু হাদিসে থাকা আদবটিই ধরছি। এটি মুসলিমের দৈনন্দিন আচরণকে সুন্দর ও পরিমিত করে। এতে অন্যদের সামনে অস্বস্তি কমে এবং নিজের আচরণও নিয়ন্ত্রিত থাকে—হাদিসের ভাষায় এটিই মূল নির্দেশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাঁচির সময় হাত বা কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকতে হয়।
- হাঁচির শব্দ কম রাখা ভদ্রতার অংশ।
- সুন্নত আদব দৈনন্দিন ছোট কাজেও দেখা যায়।
