৬/১৪৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৮৯০ - সাহাবীদের মুসাফাহার প্রথা
সাক্ষাৎকালীন আদব - সাক্ষাৎকালে মুসাফাহা করা, হাসিমুখ হওয়া, সৎ ব্যক্তির হাত চুমা, নিজ সন্তানকে স্নেহভরে চুমা দেওয়া, সফর থেকে আগত ব্যক্তির সাথে মু‘আনাকা (কোলাকুলি) করা মুস্তাহাব। আর (কারোর সম্মানার্থে) সামনে মাথা নত করা মাকরূহ।
মুসাফাহার সুন্নত: সাহাবীদের সাক্ষাতের আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৮৯০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৮৯০
عَن أَبي الخَطَّابِ قَتَادَةَ، قَالَ: قُلْتُ ِلأَنَسٍ: أكَانَتِ المُصَافَحَةُ فِي أصْحَابِ رَسُولِ اللهِ ﷺ ؟ قَالَ: نَعَمْ. رواه البخاري
আবূল খাত্ত্বাব ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে কি মুসাফাহা (করমর্দন) করার প্রথা ছিল?’ তিনি বললেন, ’হ্যাঁ।’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৬২৬৩, তিরমিযী ২৭২৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৮৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসাফাহা বা করমর্দনের একটি সরল প্রমাণ এসেছে। কাতাদাহ (রহ.) আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহাবীদের মধ্যে কি মুসাফাহা করার প্রথা ছিল? আনাস (রা.) বললেন, হ্যাঁ। এখানে দীর্ঘ কোনো বিধান বা বাড়তি ব্যাখ্যা নেই; শুধু সাহাবীদের আমল সম্পর্কে একটি পরিষ্কার উত্তর আছে। তাই মুসাফাহা হাদিসের আলোচনায় এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাৎ হলে হাত মিলানো মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা, ভদ্রতা ও কাছাকাছি হওয়ার একটি সুন্দর রীতি হিসেবে বোঝা যায়। তবে হাদিসে যতটুকু আছে, আমরা ততটুকুই বলি—সাহাবীদের মধ্যে মুসাফাহা ছিল। এর বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়। এই সংক্ষিপ্ত উত্তরের মধ্যেই সাহাবীদের আমল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়, তাই মুসাফাহার আলোচনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীদের মধ্যে মুসাফাহা করার প্রথা ছিল।
- সাক্ষাতের সময় হাত মিলানো ভালো আদবের অংশ।
- হাদিসের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত, তাই অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
