৮/১৬৮. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৯৭৪ - পশুর অভিযোগ ও মালিকের দায়িত্ব

সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো এবং সফরে ঘুমানোর আদব-কায়দা। রাতে পথচলা মুস্তাহাব, সওয়ারী পশুদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা এবং তাদের বিশ্রামের খেয়াল রাখা। যে তাদের অধিকারের ব্যাপারে ত্রুটি করে তাকে তাদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেওয়া। সওয়ারী সমর্থ হলে আরোহীর নিজের পিছনে অন্য কাউকে বসানো বৈধ।

উটের প্রতি জুলুম ও মালিকের দায়িত্ব নিয়ে হাদিস

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/৯৭৪

وَعَنْ أَبي جَعفَرٍ عَبدِ اللهِ بنِ جَعفَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: أَردَفَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ، وَأسَرَّ إليَّ حَدِيثاً لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أحَداً مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أحَبَّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ لِحاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ. يَعنِي: حَائِطَ نَخْلٍ. رواه مسلم هكَذَا مُختصراً.وزادَ فِيهِ البَرْقَانِي بِإِسنَادِ مُسلِمٍ - بَعدَ قَوْلِهِ: حَائِشُ نَخْلٍ - فَدَخَلَ حَائِطاً لِرَجُلٍ مِنَ الأنْصَارِ، فَإِذَا فِيهِ جَمَلٌ، فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ جَرْجَرَ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ فَمَسَحَ سَرَاتَهُ - أيْ: سِنَامَهُ - وَذِفْرَاهُ فَسَكَنَ، فَقَالَ: مَنْ رَبُّ هَذَا الجَمَلِ؟ لِمَنْ هَذَا الجَمَلُ؟ فَجَاءَ فَتَىً مِنَ الأنْصَارِ، فَقَالَ: هَذَا لِي يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ. قَالَ: أَفَلاَ تَتَّقِي اللهَ فِي هَذِهِ البَهِيمَةِ الَّتِي مَلَّكَكَ اللهُ إيَّاهَا ؟ فَإنَّهُ يَشْكُو إلَيَّ أنَّكَ تُجِيعُهُ وتُدْئِبُهُ رواه أَبُو داود كرواية البرقاني

আবূ জা‘ফর আব্দুল্লাহ ইবনে জা‘ফর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

’একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সওয়ারীর উপর তাঁর পিছনে বসালেন এবং আমাকে তিনি একটি গোপন কথা বললেন, যা আমি কাউকে বলব না। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঁচু জায়গা (দেওয়াল, ঢিবি ইত্যাদি) অথবা খেজুরের বাগানের আড়ালে মল-মূত্র ত্যাগ করা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন।’ (ইমাম মুসলিম এটিকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন) বারক্বানী এতে মুসলিমের সূত্রে বর্ধিত আকারে ’খেজুরের বাগান’ শব্দের পর বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক আনসারীর বাগানে প্রবেশ করে সেখানে একটা উট দেখতে পেলেন।উটটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল এবং তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। নবী (ﷺ) তাঁর কাছে এসে তার কুঁজে এবং কানের পিছনের অংশে হাত ফিরালেন, ফলে সে শান্ত হল। তারপর তিনি বললেন, ’’এই উটের মালিক কে? এই উটটা কার?’’ অতঃপর আনসারদের এক যুবক এসে বলল, ’এটা আমার হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ’’তুমি কি এই পশুটার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না, আল্লাহ তোমাকে যার মালিক বানিয়েছেন? কারণ, সে আমার নিকট অভিযোগ করছে যে, তুমি তাকে ক্ষুধায় রাখ এবং (বেশি কাজ নিয়ে) ক্লান্ত করে ফেলো!’’ (আবু দাঊদ)[১]

মুসলিম ৩৪২, ২৪২৯, আবূ দাউদ ২৫৪৯, ইবনু মাজাহ ২৪০, আহমাদ ১৭৪৭, দারেমী ৬৬৩, ৭৫৫

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৯৭৪-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় প্রথমে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আব্দুল্লাহ ইবনে জা‘ফর (রাঃ)-কে সওয়ারীর পেছনে বসালেন এবং একটি গোপন কথা বললেন। এরপর মল-মূত্র ত্যাগের সময় আড়াল পছন্দ করার কথাও এসেছে। বর্ধিত বর্ণনায় এক আনসারীর বাগানে একটি উট রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দেখে কাঁদতে থাকে। তিনি উটের কাছে গিয়ে কুঁজ ও কানের পেছনে হাত বুলালে সে শান্ত হয়। তারপর মালিককে ডেকে বলেন, আল্লাহ তোমাকে যে পশুর মালিক বানিয়েছেন, তার ব্যাপারে কি আল্লাহকে ভয় করো না? উট অভিযোগ করেছে যে, তাকে ক্ষুধায় রাখা হয় এবং বেশি কাজ নিয়ে ক্লান্ত করা হয়। এই হাদিস প্রাণীর অধিকার, দয়া ও মালিকের জবাবদিহি শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • পশুর মালিক হওয়া দায়িত্বের বিষয়।
  • প্রাণীকে ক্ষুধায় রাখা ও অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া অন্যায়।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রাণীর কষ্টের প্রতিও দয়া দেখিয়েছেন।
  • ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও আড়াল ও শালীনতার আদব আছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন