৮/১৭১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৯৮৬ - দোয়ায় কোমলতা ও আল্লাহর নৈকট্য
উঁচু জায়গায় চড়ার সময় মুসাফির ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে এবং নীচু জায়গায় নামবার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। ‘তকবীর’ ইত্যাদি বলার সময় অত্যন্ত উচ্চঃস্বরে বলা নিষেধ
দোয়ায় কোমলতা: আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/৯৮৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/৯৮৬
وَعَنْ أَبي مُوسَى الأَشعَرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ، فَكُنَّا إِذَا أَشْرَفْنَا عَلَى وَادٍ هَلَّلْنَا وَكَبَّرْنَا وَارتَفَعَتْ أَصْوَاتُنَا، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «يَا أيُّهَا النَّاسُ، اِرْبَعُوا عَلَى أنْفُسِكُمْ، فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِباً، إنَّهُ مَعَكُمْ، إنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ». متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর সাথে সফরে ছিলাম। আমরা যখন কোন উঁচু উপত্যকায় চড়তাম তখন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ বলতাম। (একদা) আমাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল। নবী (ﷺ) তখন বললেন, ’’হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন কর। কেননা, তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না। তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ২৯৯২, ৬৩৮৪, ৪২০৫, ৬৪০৯, ৬৬১০, ৭৩৮৬, মুসলিম ২৭০৪, তিরমিযী ৩৩৭৪, ৩৪৬১, আবূ দাউদ ১৫২৬, ইবনু মাজাহ ৩৮২৪, আহমাদ ১৯০২৬, ১৯০৭৮, ১৯০৮২, ১৯১০২, ১৯১০৮, ১৯১৫১, ১৯২৪৬, ১৯২৫৬ * (মহান আল্লাহ আরশে আছেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞান, দৃষ্টি প্রভৃতি সর্বত্র আছে। সুতরাং তাঁকে শোনাবার জন্য এত উচ্চস্বরে তকবীর ইত্যাদি পড়া নিষ্প্রয়োজন।)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৯৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের যিকিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব শেখানো হয়েছে। আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন, তাঁরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সফরে ছিলেন। কোনো উঁচু উপত্যকায় উঠলে তাঁরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। একসময় তাঁদের শব্দ উঁচু হয়ে যায়। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তোমরা নিজেদের প্রতি কোমল হও। কারণ তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী। এই হাদিসে উচ্চস্বরে দোয়া নিয়ে ভারসাম্য শেখানো হয়েছে। আল্লাহ শুনতে পান—তাই দোয়া ও যিকিরে বিনয়, শান্তি ও সংযম থাকা ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়া ও যিকিরে অকারণে খুব উচ্চস্বরে হওয়া দরকার নেই।
- আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী—এ বিশ্বাস দোয়ার আদব শেখায়।
- সফরে তাওহীদ ও তাকবীর পড়া সাহাবাদের আমল ছিল।
- নিজের প্রতি কোমল হওয়া ইসলামের সুন্দর শিক্ষা।
