১/১. অধ্যায়ঃ

সিলসিলা সহিহা হাদিস ১১ - প্রতিশোধ নয় ক্ষমার শিক্ষা

উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ

ক্ষমার দোয়া: আবূ বকর রাঃ ও রাবিয়াহর ঘটনার শিক্ষা

সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ১১

রবিয়াহ আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমাত করতাম। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একখণ্ড জমি প্রদান করেন এবং আবূ বকর (রাঃ)-কে একখণ্ড জমি প্রদান করেন। এক ফলবান খেজুর গাছ নিয়ে আমাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। আবূ বাকার (রাঃ) বলেন, গাছটি আমার সীমানাতে রয়েছে। আর আমি বললাম, গাছটি বরং আমার সীমানায় পড়েছে। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা (বাদানুবাদ) চলল।আবূ বকর (রাঃ) আমাকে এমন কথা বললেন, যা আমার অপছন্দ হল এবং তিনি লজ্জিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, হে রাবিয়াহ আমার প্রতি ঐরূপ কথা (যেমন আমি বলেছি) ফিরিয়ে দাও, যেন তা বদলা (প্রতিশোধ) হয়ে যায়। আমি বললাম, আমি এমন করব না (অর্থাৎ, ঐরূপ কথা বলব না)। আবু বকর (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি তা বল। অন্যথায় আমি তোমার বিপক্ষে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহায্য নিব। আমি বললাম, আমি তা করব না।তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আবূ বকর (রাঃ) জমি ছেড়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলেন। আমিও তাঁর পিছনে পিছনে চললাম। তখন আসলাম গোত্রের মানুষজন আসলো। তাঁরা বলল, আল্লাহ্‌ তায়ালা আবূ বকর (রাঃ)-এর উপরে রহম করুন। তিনি [আবূ বকর (রাঃ)] কোন ব্যাপারে আপনার বিপক্ষে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহায্য প্রার্থনা করছে। আর তিনি আপনাকে কী বলেছে?আমি বললাম, আপনারা জানেন না ইনি কে? (অর্থাৎ তাঁর মর্যাদা কত অধিক) ইনি আবূ বাকার সিদ্দীক। তিনি দুজনের দ্বিতীয়জন (অর্থাৎ হিজরাতকালে রাসুল (ﷺ)-এর গুহায় অবস্থানকালের সঙ্গী) তিনি মুসলমানদের মর্যাদাবান ব্যক্তি। তোমরা তাঁর বিপক্ষে আমাকে সাহায্য করার ব্যাপারে সাবধান হও! তিনি দেখলে রাগান্বিত হবেন (অর্থাৎ, তোমরা আমাকে সাহায্য করা হতে বিরত থাক) এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে গেলে তিনিও তাঁর রাগের দরুণ রাগান্বিত হবেন। আর তাঁদের রাগান্বিত হওয়ার কারণে আল্লাহ্‌ তায়ালাও রাগান্বিত হবেন। ফলে রাবিয়াহ ধ্বংস হবে। তাঁরা (গোত্রের লোকেরা) বলল, আপনি আমাদের কী করতে বলছেন? তিনি (রাবিয়াহ) বললেন, তোমরা ফিরে যাও।আবু বকর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে গেলেন। আমি একাকী তাঁর পিছু পিছু চলতে লাগলাম। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে ঘটনাটি আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন, হে রাবিয়াহ! তোমার ও তোমার বন্ধুর কী হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন এমন হয়েছে। তিনি (আবূ বাকার) আমাকে এমন এক কথা বলেছেন যা আমি অপছন্দ করি। তিনি আমাকেও ঐরূপ কথা বলতে বলেন, যেন তা বদলা (প্রতিশোধ) হয়ে যায়।রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ঠিক আছে। তুমি তাঁর প্রতিশোধ নিও না বরং তুমি বল, হে আবূ বাকার! আল্লাহ্‌ তোমাকে ক্ষমা করুন। হে আবূ বাকার আল্লাহ্‌ তোমাকে ক্ষমা করুন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেনঃ আবূ বকর (রাঃ) কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলেন।

আহমাদ- ৪/৫৮-৫৯, তাবারানী ‘আল-মু‘জামুল কাবীর’ - ৫/৫৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৪৫৭৭। শু‘আয়িব আল-আরনাউত বলেনঃ হাদীসটি আল-মুবারক বিন ফাযালাতের গোপনীয়তার কারণে যঈফুন জিদ্দান। তিনি ব্যাপকভাবে তাদলীস করতেন। যা তাদলীসের ক্ষেত্রে খুবই নিকৃষ্ট। আর তিনি ‘আন‘আনাহ করেছেন। (তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদে আহমাদ- ৪/১৬৬২৭) উল্লেখ্য যে, হাদীসটি ‘আন শব্দে বর্ণিত হয় নি। বরং হাদ্দাছানা শব্দে বর্ণিত হয়েছে। এ কারণে আলবানী (রহঃ) বলেনঃ “এর সানাদ সহীহ্‌ ও বর্ণনাকারীগণ ছিক্বাহ। নিশ্চয় এতে ইবনু ফাযালাতের ‘আন‘আনাহ’র ভয় থাকে। এ পর্যায়ে সঠিকভাবেই বর্ণনা এসেছে। তাছাড়া সবাই ছিক্বাহ। ইমাম আবূ যুর‘আহ বলেনঃ যখন হাদ্দাছানা বলে তখন সে ছিক্বাহ। হায়ছামী (রহঃ) বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান (মাজমায়ুয যাওয়ায়িদ- ৯/৪৫)। (আস্‌-সহীহাহ্‌-৩১৪৫) (আস্‌-সহীহাহ- ৩২৫৮) হাদীসটি সহীহ্‌।

সিলসিলা সহিহা হাদিস ১১-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে রাবিয়াহ রাঃ ও আবূ বকর রাঃ-এর একটি ঘটনা এসেছে। জমির সীমানায় একটি ফলবান খেজুর গাছ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ হয়। কথাবার্তার সময় আবূ বকর রাঃ এমন কথা বলেন, যা রাবিয়াহ রাঃ অপছন্দ করেন। পরে আবূ বকর রাঃ লজ্জিত হন এবং রাবিয়াহকে বলেন, তিনিও যেন একই ধরনের কথা ফিরিয়ে দেন, যাতে বদলা হয়ে যায়। কিন্তু রাবিয়াহ তা করতে চাননি। শেষে বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসে। তিনি রাবিয়াহকে প্রতিশোধ নিতে বলেননি; বরং বলতে বলেন, হে আবূ বকর, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। হাদিসটি সহীহ বলা হয়েছে। এখানে ক্ষমা, রাগ নিয়ন্ত্রণ, বড়দের মর্যাদা এবং সম্পর্ক রক্ষার সুন্দর শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভুল কথা হয়ে গেলে লজ্জিত হওয়া ও সংশোধনের চেষ্টা করা ভালো।
  • প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমার দোয়া করা উত্তম আচরণের অংশ।
  • সাহাবীরা মর্যাদাবান ব্যক্তির সম্মান রক্ষায় সতর্ক ছিলেন।
  • মতভেদ হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন