১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ১৪ - জিহ্বা সংযমের কঠিন শিক্ষা
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
জিহ্বা সংযম: কথার বিপদ থেকে বাঁচার হাদিস
সিলসিলা সহিহা : ১৪
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ১৪
হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাসান থেকে মুরসাল সনদে বর্ণিত; তোমরা জিহ্বা সংযত কর। হে মুয়াজ! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। জিহ্বাই মানুষকে অধোমুখী করে। (অর্থাৎ জিহ্বা তথা বাকচারিতার দরুণই মানুষ অধিকাংশ সময় বিপদে পড়ে)।
আল্লামা সুয়ূতী তাঁর জামেউস সগীর-এ (হা. ২০৫) আল-খারায়িতী’র ‘মাকারিমুল আখলাক্ব’- এর সূত্রে হাসান বসরী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন হাদীসের সম্মিলিত বর্ণনা ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে হাদীসটিকে আলবানী (রহঃ) সহীহ্ বলেছেন। (আস্-সহীহাহ- ১১২২) হাদীসটি সহীহ্।
সিলসিলা সহিহা হাদিস ১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, তোমরা জিহ্বা সংযত কর। এরপর মুয়াজ রাঃ-কে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, জিহ্বাই মানুষকে অধোমুখী করে। অর্থাৎ মানুষ অনেক সময় নিজের কথার কারণেই বিপদে পড়ে। হাদিসটি সহীহ বলা হয়েছে। এখানে জিহ্বা সংযমের শিক্ষা খুব সরাসরি। মানুষের মুখ থেকে বের হওয়া কথা সম্পর্ক গড়ে, আবার সম্পর্ক ভাঙতেও পারে। চোগলখুরী, ঝগড়া, রাগের কথা—এসবের মূলেও জিহ্বার ভুল ব্যবহার থাকতে পারে। তাই এই হাদিস কথা বলার আগে ভেবে নেওয়ার শিক্ষা দেয়। কথার কারণে ক্ষতি হতে পারে—এই সতর্কতা একজন মুসলিমকে নরম, সংযত এবং দায়িত্বশীল করে। জিহ্বা সংযম হাদিস দৈনন্দিন জীবনের জন্য খুব দরকারি শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিহ্বা সংযত করা ইসলামী চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- কথার কারণে মানুষ বিপদে পড়তে পারে।
- কথা বলার আগে ভাবা দরকার।
- ঝগড়া, চোগলখুরী ও রাগের কথার দরজা বন্ধ করতে জিহ্বা সামলানো জরুরি।
