১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৫ - চোগলখুরীর ভয়াবহ ক্ষতি
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
চোগলখুরী কী: মানুষের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সতর্কতা
সিলসিলা সহিহা : ৫
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা জান (চোগলখুরী) কী? তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলই (তা) সঠিকভাবে অবগত রয়েছেন। রাসুল (ﷺ) বললেনঃ (তা হলো) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অন্যের নিকট লাগানো।
আল-আদাবুল মুফরাদ হা. ৪২৫ (ইফা. ঢাকা হা. ৪২৭; সহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা ৩২৭), ত্বহাবী তাঁর “শরহু মুশকিলিল আছার” -এ ৩/১৩৯; সুনানে বায়হাক্বী- ১০/২৪৬-৪৭। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ “হাদীসটির সানাদ হাসান এবং এর সমস্ত বর্ণনাকারী ছিক্বাহ।” তাছাড়া হাদীসটির আরো সাক্ষ্য থাকার কথা তিনি (রহঃ) উল্লেখ করেছেন। (আস্-সহীহাহ-৮৪৫) হাদীসটি হাসান।
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, তোমরা জান চোগলখুরী কী? সাহাবীরা বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চোগলখুরী হলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অন্যের নিকট লাগানো। এখানে শুধু কথা বলা নয়, কথার উদ্দেশ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য কথা বহন করে, সেটিই চোগলখুরীর অন্তর্ভুক্ত। হাদিসটি হাসান বলা হয়েছে। এই হাদিস চোগলখুরী, গীবত নয় বরং কথার অপব্যবহার এবং সম্পর্ক নষ্ট করার বিষয়ে সতর্ক করে। মুসলিমের মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়া উচিত নয়, যা মানুষের মাঝে অশান্তি বাড়ায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চোগলখুরী হলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একের কথা অন্যের কাছে লাগানো।
- কথার পেছনের উদ্দেশ্যও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।
- মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করে এমন কথা থেকে দূরে থাকা উচিত।
- সাহাবীরা না জানলে আল্লাহ ও রাসুলের জ্ঞানের দিকে বিষয়টি সোপর্দ করতেন।
