১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ২৬ - অনুগ্রহ, ক্ষমা ও কঠোর ভাষা থেকে বাঁচা
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
মানুষকে ক্ষমা করা ও কর্কশ ভাষা থেকে বাঁচার শিক্ষা
সিলসিলা সহিহা : ২৬
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ২৬
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে মারফু’ সূত্রে বর্ণিত; তোমরা (মানুষের উপর) অনুগ্রহ কর (তাহলে আল্লাহর পক্ষ হতে) তোমাদের অনুগ্রহ করা হবে। তোমরা (মানুষকে) ক্ষমা কর (তবে) আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন। ধ্বংস কর্কশভাষীদের জন্য (অর্থাৎ কঠোরভাষী যারা তাদের জন্য মঙ্গল নেই) এবং ধ্বংস ঐ সকল দৃঢ়পদ ব্যক্তির জন্য যারা জেনে-শুনে স্বীয় (মন্দ) কর্মসমূহের উপর অটল থাকে।
ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর ‘আদাবুল মুফরাদে’ হাদীস নং ৩৮০ (ইফা, ঢাকা, হা. ৩৮২); আহমাদ- ২/১৬৫, ২১৯। আলবানী (রহঃ) বলেন: এই হাদীসটির সানাদ সহীহ্ এবং বর্ণনাকারীগণ ছিব্বাহ। (আস-সহীহাহ-৪৮২) হাদীসটি সহীহ।
সিলসিলা সহিহা হাদিস ২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই সহীহ হাদিসে মানুষের সঙ্গে আচরণের কয়েকটি বড় শিক্ষা এসেছে। বলা হয়েছে, তোমরা অনুগ্রহ কর, তাহলে তোমাদের প্রতিও অনুগ্রহ করা হবে। তোমরা ক্ষমা কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন। এরপর কর্কশভাষী মানুষ এবং যারা জেনে-শুনে নিজেদের মন্দ কাজের উপর অটল থাকে, তাদের জন্য ধ্বংসের সতর্কতা এসেছে। এখানে মূল বিষয় হলো ক্ষমা, দয়া, কোমল কথা ও ভুল থেকে ফিরে আসা। “ক্ষমা করার হাদিস” বা “কর্কশ ভাষা সম্পর্কে হাদিস” খুঁজলে এই বর্ণনা খুব সহজভাবে মানুষকে নিজের আচরণ দেখতে শেখায়। মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু জেনে-শুনে খারাপ কাজে অটল থাকা বড় ক্ষতির কারণ। একইভাবে কষ্টদায়ক ভাষা মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করে। তাই মুমিনের আচরণে দয়া, ক্ষমা ও নরম ভাষা থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের প্রতি অনুগ্রহ ও দয়া করা ভালো চরিত্রের অংশ।
- ক্ষমা করা আল্লাহর ক্ষমা লাভের কারণ হতে পারে।
- কর্কশ ভাষা মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ।
- জেনে-শুনে মন্দ কাজে অটল থাকা থেকে বাঁচা উচিত।
