১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৩০ - ছয়টি আমল ও জান্নাতের নিশ্চয়তা
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
জান্নাতের নিশ্চয়তার ছয়টি আমল
সিলসিলা সহিহা : ৩০
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ৩০
‘উবাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উবাদাহ (রাঃ) থেকে মারফূ’ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তোমরা আমাকে ছয়টি জিনিসের নিশ্চয়তা দিলে আমি তোমাদের জান্নাতের নিশ্চয়তা দিব।(ক) যখন তোমরা কথা বলবে সত্য বলবে;(খ) ওয়াদা করলে তা পালন করবে;(গ) আমানত গ্রহণ করলে তা আদায় করবে;(ঘ) লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে;(ঙ) দৃষ্টি অবনত রাখবে এবং হাতকে (অন্যায় কর্ম থেকে) সংযত রাখবে।
ইবনু খুযাইমাহ- ৩/৯১; ইবনু হিব্বান হা. ১০৭; হাকিম- ৪/৩৫৮-৫৯; আল-খারায়ত তাঁর ‘আল-মাকারিম’-এ পৃষ্ঠা ৩১; আহমাদ- ৫/৩২৩; ত্বাবারানী ‘আল-মুনত্বাকা’ ১/৪৯; বায়হাক্বী তাঁর ‘শু’আবুল ঈমান’-এ ২/৪৭/১। আলবানী (রহঃ) হাদীসটি পর্যালোচনার শেষে হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ মানে উত্তীর্ণ বলেছেন। (আস-সহীহাহ- ১৪৭০) হাদীসটি হাসান।
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাসান হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা চাইলে জান্নাতের নিশ্চয়তার কথা বলেছেন। এগুলো হলো: কথা বললে সত্য বলা, ওয়াদা করলে তা পালন করা, আমানত গ্রহণ করলে তা আদায় করা, লজ্জাস্থানের হিফাজত করা, দৃষ্টি অবনত রাখা এবং হাতকে অন্যায় কাজ থেকে সংযত রাখা। এই হাদিসে ঈমানদারের দৈনন্দিন চরিত্রের বড় ভিত্তিগুলো একসঙ্গে এসেছে। “ছয়টি আমলের হাদিস” বা “জান্নাতের নিশ্চয়তার হাদিস” বিষয়ে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শুধু ইবাদতের কথা নয়; কথা, প্রতিশ্রুতি, আমানত, চোখ, লজ্জাস্থান ও হাত—সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের কথা আছে। অর্থাৎ একজন মুমিনের সততা, পবিত্রতা ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার জীবনই তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা বললে সত্য বলা মুমিনের বড় গুণ।
- ওয়াদা ও আমানত রক্ষা করা জরুরি দায়িত্ব।
- চোখ, হাত ও লজ্জাস্থানকে অন্যায় থেকে সংযত রাখতে হবে।
- জান্নাতের পথ চরিত্র ও আচরণের সঙ্গেও জড়িত।
