১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৩৯ - পরিপূর্ণ ঈমান ও উত্তম চরিত্র
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
পরিপূর্ণ ঈমানের পরিচয়: উত্তম চরিত্র ও ভালোবাসা
সিলসিলা সহিহা : ৩৯
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ৩৯
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হয়ে মারফূ সূত্রে বর্ণিত; মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার ঐ ব্যক্তি; যে তাদের মধ্যে চরিত্রগত দিক দিয়ে সবচেয়ে উত্তম, নম্র স্বভাবী, অতিথিপরায়ণগণ, যারা (অন্যকে) ভালোবাসে এবং (অন্যের) ভালোবাসা পায়। ঐ ব্যক্তিদের মাঝে কল্যাণ নেই- যারা অন্যকে ভালোবাসে না এবং (অন্যের) ভালোবাসা পায় না। (আস্-সহীহাহ- ৭৫১)
হাদীসটি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) মারফূ‘ সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। শাইখ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ অসংখ্য সাক্ষ্যের ভিত্তিতে হাদীসটি হাসান মানে উত্তীর্ণ। হাদীসটি হাসান।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
- প্রকাশক:
- আতিফা পাবলিকেশন্স
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাসান হাদিসে মুমিনের পরিপূর্ণ ঈমানের সঙ্গে উত্তম চরিত্রকে যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি, যে চরিত্রে উত্তম, নম্র স্বভাবের, অতিথিপরায়ণ, অন্যকে ভালোবাসে এবং অন্যের ভালোবাসা পায়। এরপর বলা হয়েছে, যারা অন্যকে ভালোবাসে না এবং অন্যের ভালোবাসাও পায় না, তাদের মধ্যে কল্যাণ নেই। এখানে মূল বিষয় হলো আখলাক, নম্রতা, অতিথি সেবা ও মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। “পরিপূর্ণ ঈমানদার কে” বা “উত্তম চরিত্রের হাদিস” খুঁজলে এই বর্ণনা খুব পরিষ্কারভাবে বলে—ঈমান শুধু মুখের দাবি নয়; আচরণেও তার প্রভাব দেখা যায়। ভালোবাসা দেওয়া ও গ্রহণ করার মতো চরিত্র একজন মুমিনকে মানুষের জন্য উপকারী করে তোলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উত্তম চরিত্র ঈমানের পূর্ণতার গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন।
- নম্র স্বভাব ও অতিথিপরায়ণতা প্রশংসনীয় গুণ।
- মানুষকে ভালোবাসা এবং ভালোবাসা পাওয়ার মতো আচরণ করা উচিত।
- কঠিন ও অমিশুক আচরণ কল্যাণ কমিয়ে দিতে পারে।
