১/১. অধ্যায়ঃ

সিলসিলা সহিহা হাদিস ৩৮ - গীবতের ভয় ও ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা

উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ

গীবতের ভয়াবহতা: ভাইয়ের গোশত খাওয়ার উপমা

সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ৩৮

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন; আরবদের একে অন্যকে সফরের সময় সেবা (খেদমত) করত। আবূ বকর ও উমর (রাঃ)- এর সাথে এক ব্যক্তি ছিল যিনি তাঁদের খেদমত করত। তাঁরা উভয়ে ঘুমিয়েছিল। অতঃপর তাঁরা জাগ্রত হলেন। (কিন্তু খাদেম) তাঁদের জন্য খাবার প্রস্তুত করেনি (বরং সে ঘুমিয়েছিল) তাঁদের একজন অন্যকে বলছিল, এ (খাদেম) তোমাদের নবীর ঘুমের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করেছে (অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে, তোমাদের গৃহের ঘুমের সাথে সাদৃশ্যতা রেখেছে)।অতঃপর তাঁরা তাকে (খাদেমকে) জাগিয়ে দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গিয়ে তাঁকে বল, যে আবূ বাকার ও উমর (রাঃ) আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনার কাছে তরকারি (অর্থাৎ খাবার) চেয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাঁদের সালাম জানাবে এবং বলবে যে, তাঁরা উভয়েই খাবার গ্রহণ করেছে।(এ কথা শুনে) তাঁরা ঘাবড়িয়ে গেলেন এবং (উভয়েই) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট খাদেমকে খাবার চেয়ে পাঠিয়েছিলাম। আপনি বলেছেন যে, আমরা খাবার খেয়েছি। তো আমরা কী দিয়ে খাবার খেলাম? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের ভাইয়ের গোশ্‌ত দিয়ে। আল্লাহর শপথ! আমি তার গোশ্‌ত তোমাদের নখের মধ্যে দেখছি। তাঁরা [আবূ বাকার ও উমর (রাঃ)] বললেন, আমাদের ক্ষমা করুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে তোমাদের ক্ষমা করবে। (আস্‌-সহীহাহ-২৬০৮)

হাদীসটি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটি আল-খারায়িতী “(আরবী)” হা. ১৮৬; যিয়া আল-মাকদেসী তাঁর ‘আলমুখতারাহ’ –এ (২/৩৩/২)-এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। শাইখ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ এর সানাদ সহীহ্‌। সমস্ত বর্ণনাকারী ছিক্বাহ আবূ বদর আল-গাবারী ছাড়া অন্যান্যরা সহীহ্‌ মুসলিমের বর্ণনাকারী। হাদীসটি সহীহ্‌।

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
প্রকাশক:
আতিফা পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

সিলসিলা সহিহা হাদিস ৩৮-এর সারসংক্ষেপ

এই সহীহ হাদিসে গীবতের ভয়াবহতা একটি স্পষ্ট ঘটনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে সফরে একজন খাদেম ছিলেন। তিনি ঘুমিয়ে পড়ায় খাবার প্রস্তুত করতে পারেননি। তখন তাঁকে নিয়ে এমন কথা বলা হয়, যা পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব কঠিনভাবে ধরিয়ে দেন। যখন তারা খাবার চাইলেন, নবীজি বলেন, তারা তো খাবার গ্রহণ করেছে। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, তারা তাদের ভাইয়ের গোশত খেয়েছে। অর্থাৎ গীবতকে খুব ভয়ংকর কাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তারা ক্ষমা চাইলে নবীজি বলেন, সে তোমাদের ক্ষমা করবে। “গীবতের হাদিস” বা “ভাইয়ের গোশত খাওয়ার হাদিস” বিষয়ে এই বর্ণনা মানুষকে জিহ্বার ব্যাপারে সতর্ক করে। কারও অনুপস্থিতিতে তাকে ছোট করা সম্পর্ক ও আখলাক নষ্ট করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কারও অনুপস্থিতিতে তাকে ছোট করে কথা বলা ভয়ংকর গুনাহ।
  • খাদেম বা অধীনস্থের ভুল নিয়ে অপমানজনক কথা বলা ঠিক নয়।
  • গীবত হলে যার গীবত করা হয়েছে তার কাছেও ক্ষমা চাওয়া দরকার।
  • জিহ্বা সংযত রাখা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন