২৫/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৪ - গীবত ও মিথ্যা অপবাদের স্পষ্ট পার্থক্য
গীবত (অনুপস্থিতিতে পরনিন্দা) প্রসঙ্গে
গীবত কাকে বলে: সত্য দোষ বলা ও মিথ্যা অপবাদের পার্থক্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯৩৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৩৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْغِيبَةُ قَالَ «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ» . قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِيهِ مَا أَقُولُ قَالَ " إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ بَهَتَّهُ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বলা হল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! গীবত কি? তিনি বললেন? তোমরা ভাইয়ের প্রসঙ্গে তোমার এমন ধরনের কথা-বার্তা বলা যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্নকারী বলল, আমি যে কথাগুলো বলি তা প্রকৃতপক্ষেই তার মধ্যে নিহিত থাকলে, এক্ষেত্রে আপনার কি মত? তিনি বললেনঃ তুমি যে কথাগুলো বল তা প্রকৃতই তার মধ্যে নিহিত থাকলে তবেই তো তুমি তার গীবত করলে। তুমি যা বল তার মধ্যে যদি সেগুলো না থাকে তাহলে তুমি তাকে মিথ্যা অপবাদ দিলে।
আবূ বারযা, ইবনু উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে গীবতের খুব স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কারও সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে—এটাই গীবত। একজন প্রশ্ন করলেন, বলা কথাটি যদি সত্যিই তার মধ্যে থাকে, তাহলে কী হবে? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানালেন, সত্যিই যদি সেই দোষ তার মধ্যে থাকে, তবেই তা গীবত। আর যদি কথাটি তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তা মিথ্যা অপবাদ। ফলে “আমি তো সত্য কথাই বলেছি” বলে কারও অপছন্দের দোষ আলোচনা করা বৈধ হয়ে যায় না। সত্য দোষ বলা গীবত, আর অসত্য দোষ চাপানো আরও এক ধাপ গুরুতর—অপবাদ। হাদিসটি কথা বলার আগে থামতে শেখায়। কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে যা বলছি, সে তা অপছন্দ করবে কি না এবং কথাটি সত্য কি না—এই দুই প্রশ্ন মনে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও অপছন্দের সত্য দোষ তার অনুপস্থিতিতে বলা গীবত।
- যে দোষ তার মধ্যে নেই তা বলা মিথ্যা অপবাদ।
- সত্য কথা হলেই অন্যের দোষ আলোচনা করা বৈধ হয়ে যায় না।
- কথা বলার আগে তার সত্যতা ও মানুষের সম্মানের বিষয়টি ভাবা উচিত।
