ইবনে সাইয়্যাদ

মোট হাদিস ০৪

ইবনে সাইয়্যাদ ও দাজ্জাল সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

ইসলামের ইতিহাসে ইবনে সাইয়্যাদ একটি রহস্যময় চরিত্র, যাকে নিয়ে সাহাবিদের মাঝে দাজ্জাল হওয়ার প্রবল সন্দেহ ছিল। আলোচ্য হাদিসগুলো থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার সাহাবিদের নিয়ে তার কাছে যান এবং তার নবুয়তের দাবির সত্যতা পরীক্ষা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মনে মনে সূরা দুখানের একটি আয়াত গোপন রাখলে সে আংশিক বা অস্পষ্টভাবে তা অনুমান করে বলে। তখন নবীজী (ﷺ) তাকে ভর্ৎসনা করেন এবং জানান যে সে তার অনুমানের বাইরে যেতে পারবে না। উমর (রাঃ) তাকে হত্যা করতে চাইলে নবীজী (ﷺ) বলেন, সে যদি দাজ্জাল হয়ে থাকে তবে তাকে কাবু করা যাবে না, আর দাজ্জাল না হলে তাকে হত্যায় কোনো কল্যাণ নেই। পরবর্তীকালে সাহাবি ইবনু উমর (রাঃ) এবং জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) আল্লাহর কসম করে বলতেন যে ইবনে সাইয়্যাদই হলো আসল মাসীহ দাজ্জাল। জাবির (রাঃ) আরও উল্লেখ করেন যে উমর (রাঃ) নবীজী (ﷺ)-এর সামনেই এমন কসম করেছিলেন এবং নবীজী (ﷺ) তা অস্বীকার বা নিষেধ করেননি।

حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ مَرَّ بِابْنِ صَائِدٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ وَهُوَ غُلاَمٌ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ «أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ . ثُمَّ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِلنَّبِيِّ ﷺ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ «آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ». ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ «مَا يَأْتِيكَ». قَالَ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ " خُلِّطَ عَلَيْكَ الأَمْرُ». ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنِّي قَدْ خَبَّأْتُ لَكَ خَبِيئَةً». وَخَبَّأَ لَهُ ﴾ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ ﴿ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ هُوَ الدُّخُّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ».فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِنْ يَكُنْ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ». يَعْنِي الدَّجَّالَ " وَإِلاَّ يَكُنْ هُوَ فَلاَ خَيْرَ فِي قَتْلِهِ».

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) তাঁর একদল সাহাবীসহ ইবনু সাইয়াদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও ছিলেন। এ সময় সে (ইবনু সায়িদ) কয়েকজন বালকের সঙ্গে ‘মাগালা’ গোত্রের দুর্গের পাশে খেলা করছিল। সেও ছিল বালক বয়সী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত দিয়ে তার পিঠ স্পর্শ করার পূর্ব পর্যন্ত সে কিছুই টের পায়নি।তিনি তাকে প্রশ্ন করলেনঃ আমি যে রাসূলুল্লাহ, তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও? বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু সায়িদ তার দিকে তাকিয়ে বললো, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি নিরক্ষরদের নবী। সে নবী (ﷺ)-কে বললো, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছি। পুনরায় নবী (ﷺ) তাকে প্রশ্ন করলেনঃ তোমার নিকট কে আসে? সে বললো, আমার নিকট সত্যবাদীও আসে, মিথ্যাবাদীও আসে। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার ব্যাপারটা ঘোলাটে হয়ে গেলো। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমার জন্য একটি বিষয় গোপন রেখেছি।তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তার জন্য গোপন রেখেছিলেনঃ “যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে” (সূরা দুখান : ১০)।ইবনু সাইয়াদ বললো, সেটা ধোঁয়া। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ দূর হও! তুমি তোমার অনুমান হতে কখনো অগ্রসর হতে পারবে না। ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অনুমতি দিন, আমি ওর ঘাড়ে আঘাত হানি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন! এ যদি সেই (দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তবে তুমি তার অর্থাৎ দাজ্জালের উপর শক্তি খাটিয়েও কাবু করতে পারবে নাঃ আর যদি সে তা না হয়ে থাকে, তবে তাকে হত্যা করায় কোন কল্যাণ নেই।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ فَقَدْنَا ابْنَ صَيَّادٍ يَوْمَ الْحَرَّةِ .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা ইবনু সাইয়াদকে ‘হারা’র যুদ্ধের দিন হারিয়ে ফেলেছি।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ وَاللَّهِ مَا أَشُكُّ أَنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ ابْنُ صَيَّادٍ .

নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইবনু ‘উমর (রাঃ) বলতেন, ইবনু সাইয়াদই সে মাসীহে দাজ্জাল, এতে আমার কোন সন্দেহ নেই।

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ أَنَّ ابْنَ صَائِدٍ الدَّجَّالُ، فَقُلْتُ تَحْلِفُ بِاللَّهِ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمْ يُنْكِرْهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ .

মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে দেখলাম, তিনি আল্লাহর কসম করে বলছেন যে, ইবনু সাইয়াদই দাজ্জাল। আমি বললাম, আপনি আল্লাহর কসম করছেন? তিনি বললেন, আমি ‘উমরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে এ ব্যাপারে আল্লাহর কসম করতে শুনেছি; অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা অস্বীকার করেননি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন