নিষিদ্ধ বিবাহ
মোট হাদিস ১৫০
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ الْفَزَارِيِّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا جَلَبَ، وَلَا جَنَبَ، وَلَا شِغَارَ فِي الْإِسْلَامِ» قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «هَذَا خَطَأٌ فَاحِشٌ وَالصَّوَابُ حَدِيثُ بِشْرٍ»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: ইসলামে 'জালাব' এবং 'শিগার' নেই। আবূ 'আবদুর রহমান বলেন, এ সানাদটি মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। সঠিক হলো বিশ্র-এর বর্ণনা।
[১] যাকাত আদায়কারী কর্তৃক যাকাত দাতাদের স্থানে না গিয়ে নির্ধারিত স্থানে মাল সম্পদ নিয়ে আসতে বাধ্য করাকে জালব বলা হয়।[২] জনপদের শেষ প্রান্তে যাকাত আদায়কারী কর্তৃক চৌকী স্থাপন করা এবং সেখানে বসে যাকাতদাতাদের কাছে না গিয়ে যাকাত আদায় করা। অথবা যাকাতদাতা কর্তৃক তার মাল সম্পদ দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যাওয়া, যাতে যাকাত আদায়কারী অসুবিধায় পড়েন।
وَقَالَ لَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي حَبِيبٌ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، حَرُمَ مِنَ النَّسَبِ سَبْعٌ، وَمِنَ الصِّهْرِ سَبْعٌ. ثُمَّ قَرَأَ {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ} الآيَةَ. وَجَمَعَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ بَيْنَ ابْنَةِ عَلِيٍّ وَامْرَأَةِ عَلِيٍّ. وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ لاَ بَأْسَ بِهِ. وَكَرِهَهُ الْحَسَنُ مَرَّةً ثُمَّ قَالَ لاَ بَأْسَ بِهِ. وَجَمَعَ الْحَسَنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ بَيْنَ ابْنَتَىْ عَمٍّ فِي لَيْلَةٍ، وَكَرِهَهُ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ لِلْقَطِيعَةِ، وَلَيْسَ فِيهِ تَحْرِيمٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ﴿ وَقَالَ عِكْرِمَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذَا زَنَى بِأُخْتِ امْرَأَتِهِ لَمْ تَحْرُمْ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ. وَيُرْوَى عَنْ يَحْيَى الْكِنْدِيِّ عَنِ الشَّعْبِيِّ وَأَبِي جَعْفَرٍ، فِيمَنْ يَلْعَبُ بِالصَّبِيِّ إِنْ أَدْخَلَهُ فِيهِ، فَلاَ يَتَزَوَّجَنَّ أُمَّهُ، وَيَحْيَى هَذَا غَيْرُ مَعْرُوفٍ، لَمْ يُتَابَعْ عَلَيْهِ. وَقَالَ عِكْرِمَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذَا زَنَى بِهَا لَمْ تَحْرُمْ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ. وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي نَصْرٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ حَرَّمَهُ. وَأَبُو نَصْرٍ هَذَا لَمْ يُعْرَفْ بِسَمَاعِهِ مِنِ ابْنِ عَبَّاسٍ. وَيُرْوَى عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَجَابِرِ بْنِ زَيْدٍ وَالْحَسَنِ وَبَعْضِ أَهْلِ الْعِرَاقِ تَحْرُمُ عَلَيْهِ. وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لاَ تَحْرُمُ حَتَّى يُلْزِقَ بِالأَرْضِ يَعْنِي يُجَامِعَ. وَجَوَّزَهُ ابْنُ الْمُسَيَّبِ وَعُرْوَةُ وَالزُّهْرِيُّ. وَقَالَ الزُّهْرِيُّ قَالَ عَلِيٌّ لاَ تَحْرُمُ. وَهَذَا مُرْسَلٌ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রক্তের সম্পর্কের সাতজন ও বৈবাহিক সম্পর্কের সাতজন নারীকে বিয়ে করা হারাম।এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন: “তোমাদের জন্যে তোমাদের মায়েদের বিয়ে করা হারাম করা হয়েছে।” (সূরা আন-নিসা: ২৪)‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু জা’ফর (রাঃ) একসঙ্গে ‘আলী (রাঃ) - এর স্ত্রী [১৩] ও কন্যাকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করেন (তারা উভয়েই সৎ-মা ও সৎ-কন্যা ছিল) ইব্নু শিরীন বলেন, এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু হাসান বসরী (রহঃ) প্রথমত এ মত পছন্দ করেননি; কিন্তু পরে বলেন, এতে দোষের কিছুই নেই। কিন্তু হাসান ইব্নু হাসান ইব্নু ‘আলী একই রাতে দুই চাচাত বোনকে একই সঙ্গে বিয়ে করেন। জাবির ইব্নু যায়দ সম্পর্কচ্ছেদের আশঙ্কায় এটা মাকরূহ মনে করেছেন; কিন্তু এটা হারাম নয়।যেমন আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, “এসব ছাড়া আর যত মেয়ে লোক রয়েছে তা তোমাদের জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছে।” (আন-নিসা: ২৪)ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যদি কেউ তার শালীর সঙ্গে অবৈধ যৌন মিলন করে তবে তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যায় না। শা’বী এবং আবূ জা’ফর বলেন, যদি কেউ কোন বালকের সঙ্গে সমকামে লিপ্ত হয়, তবে তার মা তার জন্য বিয়ে করা হারাম হয়ে যাবে। ইকরামাহ (রহঃ)... ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ যদি শাশুড়ির সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়, তবে তার স্ত্রী হারাম হয় না। আবূ নাসর ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, হারাম হয়ে যাবে।‘ইমরান ইব্নু হুসায়ন (রাঃ) জাবির ইব্নু যায়দ (রহঃ) আল হাসান (রহঃ) এবং কতিপয় ইরাকবাসী থেকে বর্ণনা করেন যে, তার স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক হারাম হয়ে যাবে। উপরোক্ত ব্যাপারে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক ততক্ষণ হারাম হয় না, যতক্ষণ না কেউ তার শাশুড়ির সঙ্গে অবৈধ যৌন মিলনে লিপ্ত হয়। ইব্নু মুসাইয়িব, ‘উরওয়া (রহঃ) এবং যুহ্রী এমতাবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বৈধ বলেছেন। যুহ্রী বলেন, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, হারাম হয় না। ওখানে যুহ্রীর কথা মুরসাল অর্থাৎ এ কথা যুহুরী ‘আলী (রাঃ) থেকে শোনেননি।
[১৩] ফাতিমাহ (রাঃ)-এর জীবদ্দশায় ‘আলী (রাঃ) কাউকে বিয়ে করেননি। পরে তিনি বিয়ে করেন।
مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ أَخْبَرَنَا عَمْرٌو حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ تَزَوَّجَ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ مُحْرِمٌ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইহ্রাম অবস্থায় নবী (ﷺ) বিবাহ করেছেন।
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ سُئِلَ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَرَخَّصَ فَقَالَ لَه“ مَوْلًى لَه“ إِنَّمَا ذ‘لِكَ فِي الْحَالِ الشَّدِيدِ وَفِي النِّسَاءِ قِلَّةٌ أَوْ نَحْوَه“ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ نَعَمْ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মহিলাদের মুত’আহ বিয়ে সম্পর্কে ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, তখন তিনি তার অনুমতি দেন। তাঁর আযাদকৃত গোলাম তাঁকে বললেন যে, এরূপ হুকুম নিতান্ত প্রয়োজন ও মহিলাদের স্বল্পতা ইত্যাদির কারণেই ছিল? ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হাঁ।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا خَطَّابُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الْعَمَّةِ وَالْخَالَةِ وَبَيْنَ الْخَالَتَيْنِ وَالْعَمَّتَيْنِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এমন দুই মহিলাকে একত্রে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন যাদের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে ফুফু ও ভাতিজী এবং খালা ও ভাগ্নী। অনুরূপভাবে তিনি এমন দু’জন মহিলাকেও একত্রে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন যারা পরস্পর খালা বা ফুফু।
[২০৬৭] তিরমিযী, আহমাদ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَنْ زَمْعَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَهْرَامَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহ্লীলকারী এবং যার জন্য তাহ্লীল করা হয় তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন।
[১৯৩৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ১৮৯৭, মিশকাত ৩২৯৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী যামআহ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সহীহ হাদিসের বিপরীত বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০০৩, ৯/৩৮৬ নং পৃষ্ঠা)২. সালামাহ বিন ওয়াহহাম সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আল-জুরজানী বলেন, আমি আশা করি যামআহ ছাড়া তার বর্ণনায় কোন অসুবিধা নেই। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য নয় তবে তা দলীল যোগ্য হবে না। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, যামআহ বিন সালিহ কর্তৃক বর্ণিত হাদিস ছাড়া তিনি সত্যবাদী অন্যথায় তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৪৭৪, ১১/৩৮২ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু যামআহ বিন সালিহ ও সালামাহ বিন ওয়াহহাম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৩ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ২০ টি অধিক দুর্বল, ১৫ টি দুর্বল, ১৬ টি হাসান, ২ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, তিরমিযি ১১১৯, ১১২০, আবু দাউদ ২০৭৬, দারিমী ২২৫৮, আহমাদ ৪২৯৬, ৮০৮৮, দারাকুতনী ৩৫৭৬, শারহুস সুন্নাহ ২২৯৩ ইত্যাদি।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ الْبَاهِلِيِّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنْ أَبِيّ ﷺ نَكَحَ وَهُوَ مُحْرِمٍ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেন।
[১৯৬৫] সহীহুল বুখারী ১৮৩৭, ৪২৫৯, ৫১১৪, মুসলিম ১৪১০, তিরমিযী ৮৪২, ৮৪৩, ৮৪৪, নাসায়ী ২৮৩৭, ২৮৩৮, ২৮৩৯, ২৮৪০, ২৮৪১, ৩২৭১, ৩২৭২, ৩২৭৩, ৩২৭৪, আবূ দাউদ ১৮৪৪, আহমাদ ২৩৮৯, ২৪৩৩, ২৪৮৮, ২৫৫৬, ২৫৭৬, ২৫৮৪, ২৯৭২, ৩০৪৪, ৩০৬৫, ৩০৯৯, ৩২২৩, ৩২৭২, ৩৩০৯, ৩৩৯০, ৩৪০২, দারেমী ১৮২২, ইরওয়াহ ৪/২২৭-২২৮, সহীহ আবী দাউদ ১৬১৭-১৬১৮, তাহকীক আলবানীঃ শায।
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَإِسْحَاقُ الْحَنْظَلِيُّ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، أَنَّ ابْنَ، عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ . زَادَ ابْنُ نُمَيْرٍ فَحَدَّثْتُ بِهِ الزُّهْرِيَّ فَقَالَ أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ الأَصَمِّ أَنَّهُ نَكَحَهَا وَهُوَ حَلاَلٌ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে অবহিত করেছেন যে, নবী (ﷺ) মুহরিম অবস্থায় (মায়মূনাকে) বিবাহ করেছেন। ইবনু নুমায়রের বর্ণনায় আরো আছে আমি (ইবনু নুমায়র) যুহরীর নিকট এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আমাকে ইয়াযীদ ইবনুল আসাম অবহিত করেছেন যে, “তিনি ইহরামমুক্ত অবস্থায় তাঁকে বিবাহ করেছেন।”[৪৯]
[৪৯] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনার মুকাবিলায় ইয়াযীদ (রাযিঃ) এবং অন্যান্য সাহাবীগণের বর্ণনা এসেছে; এতে উভয় প্রকার বর্ণনায় বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে ‘আব্বাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনা রহিত হয়েছে। কেননা ‘আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনার বিপরীতে ক্বওলী হাদীসে রয়েছে; আর ক্বওলী হাদীসের উপর ‘আমাল করা ওয়াজিব। এ বিষয়ে হানাফীদের অভিমত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে (হানাফীদের মতে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করায় কোন দোষ নেই)।ই.ফা. ৩৩১৭, ই.সে. ৩৩১৫
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরামের অবস্থায় মায়মূনাহ্ (রাঃ)-কে বিবাহ করেছেন।
ই.ফা. ৩৩১৮, ই.সে. ৩৩১৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، وَغَيْرُهُ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، وَعَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَبْدُ الْكَرِيمِ، يَرْفَعُهُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، وَهَارُونُ لَمْ يَرْفَعْهُ، قَالَا: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّ عِنْدِي امْرَأَةً، هِيَ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ، وَهِيَ لَا تَمْنَعُ يَدَ لَامِسٍ، قَالَ: «طَلِّقْهَا»، قَالَ: لَا أَصْبِرُ عَنْهَا، قَالَ: «اسْتَمْتِعْ بِهَا» قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «هَذَا الْحَدِيثُ لَيْسَ بِثَابِتٍ، وَعَبْدُ الْكَرِيمِ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ، وَهَارُونُ بْنُ رِئَابٍ أَثْبَتُ مِنْهُ وَقَدْ أَرْسَلَ الْحَدِيثَ، وَهَارُونُ ثِقَةٌ، وَحَدِيثُهُ أَوْلَى بِالصَّوَابِ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ»
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আবদুল কারীম তা, ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) পর্যন্ত মারফু'রূপে বর্ণনা করেছেন, আর হারূন তা, মারফু'রূপে বর্ণনা করেননি। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে একলোক এসে বলল- আমার এক স্ত্রী আছে যাকে আমি সবার চেয়ে বেশি ভালবাসি। কিন্তু সে কোনো স্পর্শকারীর হাত ফেরায় না। তিনি (ﷺ) বললেন : তাকে তালাক দাও। সে বলল: আমি তার দূরত্ব সহ্য করতে পারব না। তিনি (ﷺ) বললেন : তাহলে তাকে রেখে দাও। আবু 'আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন: এ হাদীস যথার্থ নয়। 'আবদুল কারীম শক্তিশালী রাবী নন। আর হারূন ইবনু রিআব তার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য এবং তার হাদীস 'আবদুল কারীম-এর হাদীস হতে বিশুদ্ধতার অধিক নিকটবর্তী।
