কোরবানির মাংস সংরক্ষণ

মোট হাদিস ৪৩

ইসলামে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

ইসলামে কুরবানির গোশত বণ্টন ও সংরক্ষণের সুন্দর দিকনির্দেশনা রয়েছে। সহিহ হাদিস অনুযায়ী, নবী (ﷺ)-এর যুগে সাহাবিগণ মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত কুরবানির গোশত সঞ্চয় করে রাখতেন। তবে একবার বিশেষ অনটনের কারণে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) তিন দিনের বেশি ঘরে গোশত রাখতে নিষেধ করেছিলেন, যেন অভাবী মানুষ সাহায্য পায়। পরবর্তী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি নিজে খাওয়া, অন্যকে খাওয়ানো এবং গোশত সঞ্চয় করার স্পষ্ট অনুমতি দেন। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, তিন দিনের এই নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক কোনো স্থায়ী বিধান ছিল না, বরং এর উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন অভাবগ্রস্তদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। তাই প্রয়োজনে লবণ মাখিয়ে বা অন্য উপায়ে কুরবানির গোশত দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ বৈধ ও সুন্নাহসম্মত।

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتِ الضَّحِيَّةُ كُنَّا نُمَلِّحُ مِنْهُ، فَنَقْدَمُ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ ﷺ بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ «لاَ تَأْكُلُوا إِلاَّ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ ‏"‏‏.‏ وَلَيْسَتْ بِعَزِيمَةٍ، وَلَكِنْ أَرَادَ أَنْ يُطْعِمَ مِنْهُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ‏.‏>

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মদিনায় অবস্থান কালে আমরা কুরবানীর গোশতের মধ্যে লবণ মিশিয়ে রেখে দিতাম। এরপর তা নবী (ﷺ)- এর সম্মুখে পেশ করতাম। তিনি বলতেনঃ তোমরা তিন দিনের বেশি খাবে না। তবে এটি বড় ব্যাপার নয়। বরং তিনি তাত্থেকে অন্যদেরকেও খাওয়াতে চেয়েছেন। আল্লাহই বেশি জানেন।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِيِّ لِجَهْدِ النَّاسِ ثُمَّ رَخَّصَ فِيهَا .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুর্ভিক্ষজনিত কারণে লোকেদেরকে কোরবানীর গোশত জমা করে রাখতে নিষেধ করেছিলেন এবং পরে আবার জমা করে রাখার অনুমতি দেন।

[৩১৫৯] মুসলিম ১৯৭১, তিরমিযী ১৫১১, নাসায়ী ৪৪৩১, ৪৪৩২, ৪৪৩৩, আবূ দাউদ ২৮১২, আহমাদ ২৩৭২৮, ২৪৪৪১, ২৪৬৯২, ২৫২২৩, মুয়াত্তা মালেক ১০৪৭, দারেমী ১৯৫৯, সহীহ আবু দাউদ ২৫০৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: دَفَّتْ دَافَّةٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ، حَضْرَةَ الْأَضْحَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُوا، وَادَّخِرُوا ثَلَاثًا»، فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ النَّاسَ كَانُوا يَنْتَفِعُونَ مِنْ أَضَاحِيِّهِمْ، يَجْمُلُونَ، مِنْهَا، الْوَدَكَ، وَيَتَّخِذُونَ مِنْهَا الْأَسْقِيَةَ، قَالَ: «وَمَا ذَاكَ؟» قَالَ: الَّذِي نَهَيْتَ مِنْ إِمْسَاكِ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ، قَالَ: «إِنَّمَا نَهَيْتُ لِلدَّافَّةِ الَّتِي دَفَّتْ، كُلُوا وَادَّخِرُوا، وَتَصَدَّقُوا»

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

গ্রাম্য ব্যক্তিদের একটি দল কুরবানীর সময়ে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমরা খাও এবং তিন দিন পর্যন্ত জমা করে রাখতে পার। পরের বছর যখন লোকেরা বলল : হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মানুষ তাদের কুরবানী দ্বারা কল্যাণ সাধন করে। তার চর্বি গলায় এবং তা দ্বারা মশক বানায়। তিনি (ﷺ) বললেন : এতে কি হয়েছে? লোকটি বলল : আপনি তো কুরবানীর গোশত জমা রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি (ﷺ) বললেন, আমি তো নিষেধ করেছিলাম যারা আগমন করেছিল তাদের জন্য। এখন তোমরা খাও, জমা করে রাখ এবং দান কর।

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ «لاَ يَأْكُلْ أَحَدٌ مِنْ لَحْمِ أُضْحِيَّتِهِ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ " .

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যেন কুরবানীর গোশ্‌ত তিনদিনের পরে না খায়।

ই.ফা. ৪৯৩৯, ই.সে. ৪৯৪৪

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ، بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - كِلاَهُمَا عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ بِمِثْلِ حَدِيثِ اللَّيْثِ .

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) হতে লায়স (রহঃ) এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।

ই.ফা. ৪৯৪০, ই.সে. ৪৯৪৫

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا وَقَالَ عَبْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى أَنْ تُؤْكَلَ لُحُومُ الأَضَاحِي بَعْدَ ثَلاَثٍ . قَالَ سَالِمٌ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَأْكُلُ لُحُومَ الأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلاَثٍ . وَقَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ بَعْدَ ثَلاَثٍ .

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন দিনের উপরে কুরবানীর গোশ্‌ত আহার করতে বারণ করেছেন। সালিম (রহঃ) বলেন, এজন্য ইবনু ‘উমর (রাঃ) তিনদিনের উপর কুরবানীর গোশ্‌ত খেতেন না। ইবনু আবূ ‘উমর ‘তিনদিনের পর’ কথাটি বর্ণনা করেন।

ই.ফা. ৪৯৪১, ই.সে. ৪৯৪৬

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ تُؤْكَلَ لُحُومُ الْأَضَاحِيِّ بَعْدَ ثَلَاثٍ»

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন দিনের পরে কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " لاَ يَأْكُلُ أَحَدُكُمْ مِنْ لَحْمِ أُضْحِيَتِهِ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَنَسٍ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. - وَإِنَّمَا كَانَ النَّهْىُ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ مُتَقَدِّمًا ثُمَّ رَخَّصَ بَعْدَ ذَلِكَ.

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি তার কুরবানীর গোশত যেন তিন দিনের অধিক না খায়।

আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। তিন দিনের পরে কুরবানীর গোশত খেতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সময় নিষেধ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা (বেশি দিন) খাওয়ার সম্মতি দেন।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ نَهَى عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلاَثٍ ثُمَّ قَالَ بَعْدُ «كُلُوا وَتَزَوَّدُوا وَادَّخِرُوا " .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি তিনদিনের পরেও কুরবানীর গোশ্‌ত খেতে বারণ করেছেন। তারপর পরবর্তীকালে তিনি বলেছেন, এখন তোমরা খেতে পার, পাথেয় হিসেবে ব্যবহার করতে পার এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার।

ই.ফা. ৪৯৪৩, ই.সে. ৪৯৪৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا نَتَزَوَّدُهَا إِلَى الْمَدِينَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূল (ﷺ) এর সময় মাদীনায় পৌঁছা পর্যন্ত কুরবানীর গোশ্‌ত পাথেয় হিসেবে নিয়ে আসতাম।

ই.ফা. ৪৯৪৬, ই.সে. ৪৯৫১

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন