অপবাদ ও গীবত
মোট হাদিস ০৪
অপবাদ ও গীবত নিয়ে আল-হাদিসের কঠোর হুঁশিয়ারি ও বিধান
ইসলামে মানুষের সম্মান ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় অপবাদ ও গীবত করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সতর্ক করেছেন যে, নিজের কৃত অপরাধ ও গুনাহ মানুষের সামনে প্রকাশকারী ব্যতীত সমগ্র উম্মতকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। অর্থাৎ, আল্লাহ কোনো গুনাহ গোপন রাখলে তা নিজে প্রকাশ করা মারাত্মক অন্যায়। এছাড়া, সমাজে কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বা কুৎসা রটানো জঘন্য অপরাধ। হাদিস অনুযায়ী, কেউ যদি নিজের অধীনস্থ বা ক্রীতদাসের প্রতিও মিথ্যা অপবাদ দেয়, তবে কিয়ামতের দিন তাকে কশাঘাত তথা কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। এমনকি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যখন মা আয়েশা (রাঃ)-এর পবিত্রতার সমর্থনে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়, তখন যারা এই মিথ্যা অপবাদে লিপ্ত ছিল (হাসান ইবনু সাবিত, মিসতাহ ইবনু উসাসা ও হামনা বিনত জাহশ), তাদের ওপর নবীজী (ﷺ) সরাসরি হদ বা নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করেছিলেন। ইসলামিক স্কলারদের মতে, অন্যের সম্মানহানি থেকে বিরত থাকা এবং নিজের জবানকে সংযত রাখাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ ﷺ يَقُولُ مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ وَهُوَ بَرِيءٌ مِمَّا قَالَ جُلِدَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবুল কাসিম (ﷺ)–কে বলতে শুনেছি যে, কেউ আপন ক্রীতদাসের প্রতি অপবাদ আরোপ করল। অথচ সে তা থেকে পবিত্র যা সে বলেছে। কিয়ামত দিবসে তাকে কশাঘাত করা হবে। তবে যদি এমনি হয় যেমন সে বলেছে (সে ক্ষেত্রে কশাঘাত করা হবে না)।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، وَمَالِكُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمِسْمَعِيُّ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - أَنَّ ابْنَ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي قَامَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ ذَاكَ وَتَلاَ - تَعْنِي الْقُرْآنَ - فَلَمَّا نَزَلَ مِنَ الْمِنْبَرِ أَمَرَ بِالرَّجُلَيْنِ وَالْمَرْأَةِ فَضُرِبُوا حَدَّهُمْ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার সমর্থনে যখন আয়াত অবতীর্ণ হলো, নবী (ﷺ) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি মিম্বার থেকে নেমে এসে দু’জন পুরুষ ও একজন নারী সম্পর্কে নির্দেশ দিলে তাদের উপর হাদ্দ কার্যকর করা হয়।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ ذَلِكَ وَتَلاَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا نَزَلَ أَمَرَ بِرَجُلَيْنِ وَامْرَأَةٍ فَضُرِبُوا حَدَّهُمْ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত মিথ্যা অপবাদ খণ্ডন করে কোরআনের আয়াত নাযিল হলে পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের মিম্বারে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে কোরআন (সেই আয়াত) তিলাওয়াত করেন, অতঃপর মিম্বার থেকে অবতরণ করে দু’জন পুরুষ ও একজন নারী সম্পর্কে নির্দেশ দিলে তাদের উপর হদ্দ কার্যকর করা হয়।
[২৫৬৭] তিরমিযী ৩১৮১, আবূ দাউদ ৪৪৭৪। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرْ عَائِشَةَ قَالَ فَأَمَرَ بِرَجُلَيْنِ وَامْرَأَةٍ مِمَّنْ تَكَلَّمَ بِالْفَاحِشَةِ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ وَمِسْطَحِ بْنِ أُثَاثَةَ . قَالَ النُّفَيْلِيُّ وَيَقُولُونَ الْمَرْأَةُ حَمْنَةُ بِنْتُ جَحْشٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেনঃ যারা অশ্লীল কথা রটিয়েছিল, তিনি তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও একজন নারী সম্পর্কে আদেশ দেন। পুরুষ দু’জন হলোঃ হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) ও মিসত্বাহ ইবনু উসাসাহ (রাঃ)। নুফাইলী (রহঃ) বলেন, তারা বলতেনঃ মহিলাটি হলো হামনা বিনতু জাহ্শ (রাঃ)।
[৪৪৭৪] এর পূর্বেরটি দেখুন।
