কোরআনের সিজদার নিয়ম
মোট হাদিস ১৩
কোরআনের তিলাওয়াতে সিজদার নিয়ম ও ইসলামিক সঠিক বিধান
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করার সময় কিছু নির্দিষ্ট আয়াতে সিজদা করা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি অনন্য মাধ্যম। তবে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, তিলাওয়াতে সিজদা করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ নয়, বরং এটি একটি সুন্নাত বা ঐচ্ছিক আমল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোনো কোনো সূরার (যেমন সূরা সাদ) সিজদার আয়াতে স্বয়ং সিজদা করেছেন, আবার কোনো কোনো সূরা (যেমন সূরা আন-নাজম) তিলাওয়াতের সময় সিজদা করেননি। হযরত উমর (রাঃ) জুমার খুতবায় সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে মিম্বর থেকে নেমে সিজদা করেছেন, আবার পরবর্তী জুমায় সিজদা না করে উম্মতকে জানিয়েছেন যে, সিজদা না করলে কোনো গুনাহ নেই। ইসলামি স্কলারদের মতে, আল্লাহ তায়ালা সিজদাকে আবশ্যক করেননি; এটি মুমিনের ইচ্ছাধীন বিষয়, যা করলে সওয়াব আছে কিন্তু না করলে কোনো পাপ হয় না।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو النُّعْمَانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ ﴾ص﴿ لَيْسَ مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ، وَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَسْجُدُ فِيهَا.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সূরা স-দ-এর সিজদা অত্যাবশ্যক সিজদাসমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নবী (ﷺ)-কে আমি তিলাওয়াতের পর সিজদা করতে দেখেছি।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، - قَالَ مُحَمَّدٌ رَأَيْتُهُ بِمَكَّةَ - حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمْ يَسْجُدْ فِي شَىْءٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ مُنْذُ تَحَوَّلَ إِلَى الْمَدِينَةِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদিনায় আগমনের পর মুফাস্সলের কোথাও সিজদা করেননি।
[১] এর সানাদ দুর্বল। আবূ দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, সানাদে ইবনু কুদামাহ হচ্ছে হারিস ইবনু ‘উবাইদ। হাফিয ‘আত-তাক্বরীব’ গ্রন্থে বলেন : সত্যবাদী, তবে ভুল করেন। ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থে রয়েছে : ইমাম আহমাদ বলেন : তিনি মুয্তারিবুল হাদীস। ইমাম আবূ হাতিম বলেন : তিনি ঐরূপ মজবুত নন।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَيْسَ ﴾ ص ﴿ مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَسْجُدُ فِيهَا .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সূরা সোয়াদের সিজদা আবশ্যক নয়। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এখানে সিজদা করতে দেখেছি।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ أَبُو مَسْعُودٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقْرَأُ عَلَيْنَا الْقُرْآنَ فَإِذَا مَرَّ بِالسَّجْدَةِ كَبَّرَ وَسَجَدَ وَسَجَدْنَا . قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَكَانَ الثَّوْرِيُّ يُعْجِبُهُ هَذَا الْحَدِيثُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يُعْجِبُهُ لأَنَّهُ كَبَّرَ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে কোরআন পড়ার সময় সিজদার আয়াত অতিক্রমকালে তাকবীর বলে সিজদা করতেন এবং আমরাও সিজদা করতাম। [১৪১৩] ‘আবদুর রায্যাক বলেন, ইমাম সাওরী এ হাদীছ পছন্দ করতেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কেননা এতে তাকবির উচ্চারণের কথা রয়েছে।
[১৪১৩] আবূ দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ ﴾ ص ﴿ فَلَمَّا بَلَغَ السَّجْدَةَ نَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدَ النَّاسُ مَعَهُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمٌ آخَرُ قَرَأَهَا فَلَمَّا بَلَغَ السَّجْدَةَ تَشَزَّنَ النَّاسُ لِلسُّجُودِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّمَا هِيَ تَوْبَةُ نَبِيٍّ وَلَكِنِّي رَأَيْتُكُمْ تَشَزَّنْتُمْ لِلسُّجُودِ " . فَنَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدُوا .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর ‘সূরা সোয়াদ’ তিলাওয়াতকালে সিজদার আয়াত পৌছলে নীচে নেমে সিজদা করলে লোকজনও তাঁর সাথে সিজদা করলো। অতঃপর আরেক দিন তিনি তা তিলাওয়াত করলেন, তখন সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌছলে লোকজন সিজদার জন্য প্রস্তুত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা নাবীর জন্য তওবাহ স্বরূপ ছিলো। অথচ আমি দেখেছি তোমরা সিজদা করার জন্য প্রস্তুত। অতঃপর তিনি সিজদা করলে লোকেরাও সিজদা করলো।
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا .
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে সূরা নাজ্ম তিলাওয়াত করেছি কিন্তু তিনি এ সূরাতে সিজদা করেননি।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، أَنَّ مِشْرَحَ بْنَ هَاعَانَ أَبَا الْمُصْعَبِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ حَدَّثَهُ قَالَ قُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَفِي سُورَةِ الْحَجِّ سَجْدَتَانِ قَالَ «نَعَمْ وَمَنْ لَمْ يَسْجُدْهُمَا فَلاَ يَقْرَأْهُمَا».
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর রাসূল! সূরা হজ্জে কি দুটি সিজদা রয়েছে? তিনি বলেন, হাঁ। যে ব্যক্তি এ দুটি সিজদা আদায় করবে না সে যেন তা তিলাওয়াত না করে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ الْبَرْقِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سَعِيدٍ الْعُتَقِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُنَيْنٍ، - مِنْ بَنِي عَبْدِ كُلاَلٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَقْرَأَهُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَجْدَةً فِي الْقُرْآنِ مِنْهَا ثَلاَثٌ فِي الْمُفَصَّلِ وَفِي سُورَةِ الْحَجِّ سَجْدَتَانِ .قَالَ أَبُو دَاوُدَ رُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ إِحْدَى عَشْرَةَ سَجْدَةً وَإِسْنَادُهُ وَاهٍ .
‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) তাঁকে কোরআনের মধ্যে পনেরটি সিজদা পাঠ করিয়েছেন। তন্মধ্যে সূরা মুফাস্সলে তিনটি এবং সূরা হজ্জের মধ্যে দুটি। [১৪০১]
[১৪০১] ইবনু মাজাহ (অধ্যায় : সলাত ক্বায়িম, অনুঃ কুরআনে সিজদার সংখ্যা, হাঃ ১০৫৭) ইবনু আবূ মারইয়াম হতে। এর সানাদ দুর্বল। আবূ দাউদ বলেন, এর সানাদ নিকৃষ্ট। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ দারদা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, সিজদা এগারটি। তবে এ বর্ণনার সানাদ নিকৃষ্ট।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيُّ، قَالَ لَمَّا بَعَثْنَا الرَّكْبَ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي إِلَى الْمَدِينَةِ قَالَ - كُنْتُ أَقُصُّ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ فَأَسْجُدُ فَنَهَانِي ابْنُ عُمَرَ فَلَمْ أَنْتَهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ ثُمَّ عَادَ فَقَالَ إِنِّي صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ - رضى الله عنهم - فَلَمْ يَسْجُدُوا حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .
আবূ তামীমাহ আল-হুজাইমী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন আমরা কাফেলার সাথে মদিনায় আসি তখন ফজরের সালাতের পর আমি লোকদেরকে ওয়াজ করতাম, এ সময় সিজদার আয়াত পাঠ করলে আমি সিজদা করতাম। ইবনু ‘উমর (রাঃ) আমাকে পরপর তিনবার নিষেধ করা সত্ত্বেও আমি তাঁর কথায় কর্ণপাত না করায় তিনি পুনরায় নিষেধ করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ বাকর, ‘উমর এবং ‘উসমান (রাঃ)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। কিন্তু তাঁরা সূর্য না উঠা পর্যন্ত সিজদা করেননি।
[১] আহমাদ (হাঃ ৪৭৭১)। আবূ দাউদের সানাদে আবূ বাহর রয়েছে। হাফিয তাকে দুর্বল বলেছেন। কিন্তু তার তাবে‘ করেছেন ওয়াকী‘ আহমাদের নিকট। তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী। সুতরাং হাদীসটি সহীহ।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ خُصَيْفَةَ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ، سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ ـ رضى الله عنه ـ فَزَعَمَ أَنَّهُ قَرَأَ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ﴾وَالنَّجْمِ﴿ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا.
যায়েদ ইব্নু ছাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার নবী (ﷺ)-এর নিকট সূরা আন্-নাজ্ম তিলাওয়াত করা হল কিন্তু তাতে তিনি সিজদা করেননি।
