১/১. অধ্যায়ঃ

সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ১৬ - সম্পদ, জ্ঞান ও নিয়তের ফল

ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণঃ

সম্পদ, জ্ঞান ও সৎ নিয়ত: চার ধরনের মানুষের শিক্ষা

সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিবহাদিস নম্বর ১৬

(صحيح لغيره) وَعَنْ أَبي كَبْشَةَ الْأَنَّمَارِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ثَلَاثَةٌ أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ قَالَ مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ وَلَا ظُلِمَ عَبْدٌ مَظْلَمَةً فَصَبَرَ عَلَيْهَا إِلَّا زَادَهُ اللَّهُ عِزًّا وَلَا فَتَحَ عَبْدٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ.قَالَ إِنَّمَا الدُّنْيَا لِأَرْبَعَةِ نَفَرٍ عَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالًا وَعِلْمًا فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَيَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ وَيَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا فَهَذَا بِأَفْضَلِ الْمَنَازِلِ وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالًا فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّةِ يَقُولُ لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَأَجْرُهُمَا سَوَاءٌ وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ عِلْمًا فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَا يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَلَا يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ وَلَا يَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا فَهَذَا بِأَخْبَثِ الْمَنَازِلِ وَعَبْدٍ لَمْ يَرْزُقْهُ اللَّهُ مَالًا وَلَا عِلْمًا فَهُوَ يَقُولُ لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ فِيهِ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌرواه أحمد والترمذي واللفظ له وقال حديث حسن صحيحمَثَلُ هَذِهِ الْأُمَّةِ كَمَثَلِ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا وَعِلْمًا فَهُوَ يَعْمَلُ بِعِلْمِهِ فِي مَالِهِ يُنْفِقُهُ فِي حَقِّهِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يُؤْتِهِ مَالًا فَهُوَ يَقُولُ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ هَذَا عَمِلْتُ فِيهِ مِثْلَ الَّذِي يَعْمَلُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُمَا فِي الْأَجْرِ سَوَاءٌ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ يُنْفِقُهُ فِي غَيْرِ حَقِّهِ وَرَجُلٌ لَمْ يُؤْتِهِ اللَّهُ عِلْمًا وَلَا مَالًا فَهُوَ يَقُولُ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ هَذَا عَمِلْتُ فِيهِ مِثْلَ الَّذِي يَعْمَلُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُمَا فِي الْوِزْرِ سَوَاءٌ.

আবূ কাবশা আল-আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেনঃ “তিনটি বিষয়ের উপর আমি শপথ করছি এবং তোমাদের কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করছি, তোমরা তা মুখস্থ করে রাখ। তিনি বলেনঃ উক্ত তিনটি বিষয় হল(১) সাদকা করলে কোন বান্দার সম্পদ কমে না।(২) কোন বান্দার উপর জুলুম করা হলে সে যদি ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।(৩) যখনই কোন বান্দা ভিক্ষার দরজা খুলে দিবে তখনই আল্লাহ তার জন্য অভাবের দ্বার উন্মুক্ত করে দিবেন।”(অথবা তিনি এ জাতীয় একটা কথা বলেছেন) এবং তোমাদের নিকট আরেকটি হাদীস বর্ণনা করছি, তোমরা উহা মুখস্থ করে রাখঃ “দুনিয়াটা চার প্রকার মানুষের জন্য।(১) একজন বান্দা, আল্লাহ তাকে সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন। সে তাতে তার পালনকর্তাকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তাতে আল্লাহর হক আছে তাও বুঝে (এবং তা আদায় করে)। এ ব্যক্তি সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী।(২) অপর এক বান্দা, আল্লাহ তাকে জ্ঞান দান করেছেন, কিন্তু সম্পদ দেন নাই। কিন্তু সে সৎ নিয়তের অধিকারী। সে বলেঃ আমার যদি সম্পদ থাকত তবে অমুক (প্রথম) ব্যক্তির ন্যায় তা ব্যবহার করতাম। সে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে। উভয়ে সমান প্রতিদান পাবে।(৩) তৃতীয় বান্দা, আল্লাহ তাকে সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু জ্ঞান দেন নাই। সে স্বীয় সম্পদ মূর্খতাবশতঃ অন্যায় কাজে ব্যয় করে। তাতে নিজ পালনকর্তাকেও ভয় করে না, আত্মীয়তার সম্পর্কও রক্ষা করে না, আল্লাহর কোন হকও আদায় করে না। এ ব্যক্তি নিকৃষ্টতম মানের অধিকারী।(৪) চতুর্থ বান্দা, আল্লাহ তাকে কোন সম্পদও দেন নাই, জ্ঞানও দান করেন নাই। সে বলেঃ আমার যদি সম্পদ থাকত, তবে অমুক (তৃতীয়) ব্যক্তির মত (অন্যায় কাজে) তা ব্যয় করতাম, সেও তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। আর উভয় ব্যক্তির পাপ এক সমান।”(হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ।) তবে ইবনে মাজার বর্ণনা এভাবেঃ (সহীহ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “এ উম্মতের উদাহরণ চার ব্যক্তির ন্যায়ঃ(১) এক ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন। স্বীয় সম্পদে সে ইলম অনুযায়ী আমল করে থাকে। হক পথে তা ব্যয় করে।(২) অপর এক ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে জ্ঞান দান করেছেন, কিন্তু কোন সম্পদ দেন নাই। সে বলেঃ এই ব্যক্তির মত যদি আমার (সম্পদ) থাকত তবে তার মত আমি তা ব্যবহার করতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ উভয় ব্যক্তি প্রতিদানের ক্ষেত্রে বরাবর।(৩) তৃতীয় এক ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু কোন জ্ঞান দান করেননি, ফলে সে তার সম্পদে মূর্খতা সুলভ আচরণ করে, নাহক পথে তা ব্যয় করে।(৪) চতুর্থ ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে না দিয়েছেন ধন-সম্পদ না দিয়েছেন জ্ঞান। সে বলেঃ এ ব্যক্তির ন্যায় যদি আমার (সম্পদ) থাকত, তবে এমন ভাবে তা ব্যবহার করতাম, যেমন এ ব্যক্তি করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ উভয় ব্যক্তি পাপের ক্ষেত্রে এক সমান।”

সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ১৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে প্রথমে তিনটি বিষয়ের কথা এসেছে। সাদকা করলে বান্দার সম্পদ কমে না; জুলুমের শিকার হয়ে ধৈর্য ধরলে আল্লাহ মর্যাদা বাড়িয়ে দেন; আর ভিক্ষার দরজা খুললে অভাবের দরজা খুলে যেতে পারে। এরপর দুনিয়ার মানুষকে চার ভাগে দেখানো হয়েছে। কেউ সম্পদ ও জ্ঞান পেয়ে আল্লাহকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রাখে এবং আল্লাহর হক আদায় করে। কেউ জ্ঞান পেয়েছে কিন্তু সম্পদ পায়নি; সে সৎ নিয়তে বলে, সম্পদ থাকলে প্রথম ব্যক্তির মতো কাজ করত। সে নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পায়। আবার কেউ সম্পদ পেয়েছে কিন্তু জ্ঞান নেই; সে অন্যায়ভাবে ব্যয় করে। আর কেউ সম্পদও পায়নি, জ্ঞানও পায়নি; সে খারাপ নিয়তে বলে, সম্পদ থাকলে তৃতীয় ব্যক্তির মতো করত। এই হাদিস নিয়ত, জ্ঞান ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ভারসাম্য শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সম্পদ ও জ্ঞান থাকলে আল্লাহর হক বুঝে ব্যয় করা উচিত।
  • সৎ নিয়ত প্রতিদানের কারণ হতে পারে, যদিও সম্পদ না থাকে।
  • জ্ঞান ছাড়া সম্পদ অন্যায় পথে চলে যেতে পারে।
  • খারাপ কাজের ইচ্ছাও মানুষের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন