৮/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০০০ - মৃতের জন্য বিলাপ ও শাস্তির সতর্কতা
মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদা মাকরূহ্
মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্না ও কঠোর সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০০০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০০০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا قُرَّانُ بْنُ تَمَّامٍ الأَسَدِيُّ، وَمَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الأَسَدِيِّ، قَالَ مَاتَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ قَرَظَةُ بْنُ كَعْبٍ فَنِيحَ عَلَيْهِ فَجَاءَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةُ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ مَا بَالُ النَّوْحِ فِي الإِسْلاَمِ أَمَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَنْ نِيحَ عَلَيْهِ عُذِّبَ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ» .وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَأَبِي مُوسَى وَقَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَجُنَادَةَ بْنِ مَالِكٍ وَأَنَسٍ وَأُمِّ عَطِيَّةَ وَسَمُرَةَ وَأَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আলী ইবনু রাবীআ আল-আসাদী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
কারাযা ইবনু কা’ব নামক এক আনসারী মারা গেলে তার জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি শুরু হয়। এমতাবস্থায় মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) এসে মিম্বারে উঠলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেন, ইসলামে বিলাপ করে কাঁদার বিধান কোথায়? সাবধান! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদা হয় তাকে বিলাপের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।
উমর, আলী, আবূ মূসা, কাইস ইবনু আসিম, আবূ হুরাইরা, জুনাদা ইবনু মালিক, আনাস, উম্মু আতিয়্যা, সামুরা ও আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মুগীরা (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নওহা বা বিলাপ করে কান্না। কারযা ইবন কা’ব নামে এক আনসারী মারা গেলে তাঁর জন্য বিলাপ শুরু হয়। তখন মুগীরা ইবন শু'বা রাঃ মানুষকে সতর্ক করেন এবং বলেন, ইসলামে এ ধরনের বিলাপের স্থান কোথায়। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বক্তব্য তুলে ধরেন যে, যার জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে সেই বিলাপের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। বর্ণনাটি শোকের নামে চিৎকার, মাতম ও সংগঠিত বিলাপের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দেয়। তবে এটি স্বাভাবিক চোখের পানি বা নীরব দুঃখের বর্ণনা নয়। তাই দুটির পার্থক্য বোঝা জরুরি। শোকের সময় পরিবারকে ধৈর্য ধরতে, অনিয়ন্ত্রিত বিলাপ বন্ধ করতে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দুঃখ সামলাতে সাহায্য করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃতের জন্য নওহা বা বিলাপ করে কান্না থেকে বিরত থাকতে হবে।
- শোককে চিৎকার ও মাতমে পরিণত করা কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
- স্বাভাবিক অশ্রু এবং জাহিলি ধরনের বিলাপ এক নয়।
- শোকের সময় পরিবারকে ধৈর্য ও সংযমে সহায়তা করা দরকার।
