৮/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০০১ - জাহিলি যুগের চার কুসংস্কার থেকে সতর্কতা
মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদা মাকরূহ্
জাহিলি যুগের চার কুসংস্কার: একজন মুসলিম কীভাবে সতর্ক থাকবে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০০১
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، وَالْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَنْ يَدَعَهُنَّ النَّاسُ النِّيَاحَةُ وَالطَّعْنُ فِي الأَحْسَابِ وَالْعَدْوَى أَجْرَبَ بَعِيرٌ فَأَجْرَبَ مِائَةَ بَعِيرٍ مَنْ أَجْرَبَ الْبَعِيرَ الأَوَّلَ وَالأَنْوَاءُ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতদের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি (খারাপ) বিষয় আছে। তারা কখনও এগুলো (পুরোপুরি) ছাড়বে না: মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ সহকারে ক্রন্দন করা, বংশ তুলে গালি দেওয়া, সংক্রামক রোগ সংক্রমিত হওয়ার ধারণা, একটি উট সংক্রমিত হলে একশ’টি উটে তা সংক্রমিত হওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রথমটি কিভাবে সংক্রমিত হল? আর নক্ষত্রের প্রভাব মান্য করা অর্থাৎ অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি হলো।
এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের মাঝে থেকে যেতে পারে—এমন চারটি জাহিলি অভ্যাসের কথা বলেছেন। প্রথমটি মৃতের জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা। দ্বিতীয়টি কারও বংশ তুলে গালি দেওয়া। তৃতীয়টি রোগের সংক্রমণকে এমন স্বাধীন ও নিশ্চিত শক্তি মনে করা, যেন আল্লাহর ইচ্ছা ও ফয়সালার কোনো ভূমিকা নেই। হাদিসে একটি উট থেকে একশ উটে রোগ ছড়ানোর দাবির জবাবে প্রশ্ন করা হয়েছে—প্রথম উটটি কীভাবে আক্রান্ত হলো? চতুর্থটি হলো নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্বাস করা। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো জাহিলি কুসংস্কার, অপমানজনক ভাষা এবং সৃষ্ট জিনিসকে স্বাধীন ক্ষমতার মালিক ভাবা থেকে দূরে থাকা। কারণ দেখা যাবে, কিন্তু চূড়ান্ত ক্ষমতা আল্লাহর—এই বিশ্বাস অটুট রাখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃতের জন্য বিলাপ ও চিৎকার করা জাহিলি যুগের নিন্দিত অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত।
- কারও বংশ বা পরিবার তুলে অপমান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- রোগ বা নক্ষত্রকে আল্লাহর বাইরে স্বাধীন প্রভাবশালী শক্তি মনে করা যাবে না।
- দৃশ্যমান কারণের পেছনে আল্লাহর ইচ্ছা ও ফয়সালার বিশ্বাস বজায় রাখতে হবে।
