৯/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৮৪ - বিয়ের পাত্র নির্বাচনে দীনদারী ও চরিত্র
তোমরা যে ব্যক্তির ধর্মপরায়ণতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট সে ব্যক্তির সাথে বিয়ে দাও
বিয়ের পাত্র নির্বাচনে দীনদারী ও ভালো চরিত্রের গুরুত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০৮৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০৮৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ ابْنِ وَثِيمَةَ النَّصْرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي حَاتِمٍ الْمُزَنِيِّ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ قَدْ خُولِفَ عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ سُلَيْمَانَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ . فَرَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هُرْمُزَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلاً . قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ مُحَمَّدٌ وَحَدِيثُ اللَّيْثِ أَشْبَهُ . وَلَمْ يَعُدَّ حَدِيثَ عَبْدِ الْحَمِيدِ مَحْفُوظًا .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ তোমাদের নিকট সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। তা যদি না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
আবু হাতিম আল-মুযানী ও আইশ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবদুল হামীদের বিরোধিতা করা হয়েছে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসের সনদে। এটাকে মুরসাল হিসেবে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে লাইস ইবনু সা'দ ইবনু আজলান হতে বর্ণনা করেছেন। লাইসের বর্ণনাটিকে ইমাম বুখারীও বিশুদ্ধতার নিকটতর বলেছেন এবং আবদুল হামীদের বর্ণনাকে সংরক্ষিত বলে মনে করেন না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিয়ের পাত্র নির্বাচনের দুটি প্রধান মানদণ্ড বলা হয়েছে—দীনদারী ও নৈতিক চরিত্র। কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব দিলে তার ধর্মীয় জীবন এবং মানুষের সঙ্গে আচরণ সন্তোষজনক কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। শুধু সম্পদ, সামাজিক অবস্থান বা বাহ্যিক পরিচয়কে প্রধান করে এই দুটি গুণ উপেক্ষা করার কথা হাদিসে নেই। বরং যোগ্য পাত্রের দীন ও চরিত্রে সন্তুষ্ট হওয়ার পর বিয়ে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, এই নীতিকে উপেক্ষা করা হলে সমাজে ফিতনা-ফাসাদ ও বড় ধরনের বিপর্যয় ছড়াতে পারে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্তে পরিবারকে বাস্তব ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাত্রের বিশ্বাস, নৈতিকতা এবং আচরণ যাচাই করে তারপর সম্মানজনকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাত্র নির্বাচনে দীনদারীকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে দেখতে হবে।
- ভালো নৈতিক চরিত্র বিয়ের সিদ্ধান্তের একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
- যোগ্য পাত্রকে অযথা প্রত্যাখ্যান করলে সামাজিক ফিতনা-ফাসাদের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
- বিয়ের সিদ্ধান্ত শুধু সম্পদ বা বাহ্যিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
